মাইন বিস্ফোরণে হরমুজে দুই ট্যাংকারে আগুন
ছবি: সংগৃহীত
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। প্রণালির দক্ষিণে সামুদ্রিক মাইনে আঘাত লেগে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। একই সাথে ওই অঞ্চলের আকাশসীমা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি শক্তিশালী এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে বাহিনীটি।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) আইআরজিসির এক বিবৃতিতে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনেও এই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
আইআরজিসির প্রকাশিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশে ইরান কর্তৃক ঘোষিত নিষিদ্ধ বা বিপজ্জনক নৌপথে চলাচল করছিল সংশ্লিষ্ট তেলবাহী ট্যাংকার দুটি। উক্ত অঞ্চলে আইআরজিসি নৌবাহিনীর আগে থেকে পেতে রাখা সামুদ্রিক মাইন আঘাত হানলে জাহাজ দুটিতে তীব্র আগুন ধরে যায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকার দুটির নাম, মালিকানা, হতাহতের সংখ্যা কিংবা ঘটনার সুনির্দিষ্ট সময় সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ডের পাশাপাশি কৌশলগত এই জলপথে নজরদারির সময় যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে আইআরজিসি।
আরও পড়ুন: শর্ত পূরণ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নয়: ইরান
বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালির আকাশসীমা পর্যবেক্ষণের সময় ইরানের নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ড্রোনটিকে শনাক্ত করে এবং লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে তা ভূপাতিত করে। ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, এটি আইআরজিসি কর্তৃক ভূপাতিত করা ৫৪তম মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন।
উত্তেজনাপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালির নিষিদ্ধ ও মাইন চিহ্নিত নৌপথে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে নতুন করে সতর্কবার্তা জারি করেছে আইআরজিসির নৌবাহিনী। নির্দেশ অমান্য করে উক্ত পথে চলাচল করলে তার পরিণতি হিসেবে জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক সামরিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের দিকে ইঙ্গিত করে আইআরজিসি সতর্ক করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান নীতি ও কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে বিশ্বজুড়ে তেল কোম্পানিগুলোকে এর জন্য আরও বড় খেসারত ও মূল্য দিতে হবে। মার্কিন প্রশাসনকে 'আধিপত্যবাদী' আখ্যা দিয়ে বিবৃতিতে তাদের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।
এর আগেও উক্ত প্রণালিতে একাধিক সামুদ্রিক দুর্ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। চলতি মাসের ১৪ অক্টোবর পৃথক ঘটনায় সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী জিএফএস প্রাইড নামক আড়াই হাজারেরও বেশি কনটেইনারবাহী একটি জাহাজ মাইনে আঘাত পেয়ে ডুবে যায়। এছাড়া গত ২৩ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে অ্যান্টিগা ও বারবুদার পতাকাবাহী একটি জাহাজ অচল হয়ে পড়েছিল বলে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইওএম) নিশ্চিত করে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের নৌ ও মহাকাশ বাহিনী হরমুজ প্রণালি ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ও জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে এই জলপথের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা বজায় রাখতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








