News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৪:০৪, ১১ জানুয়ারি ২০২৬

‘স্বৈরাচার রুখতে ও ক্ষমতার ভারসাম্য ফেরাতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলুন’

‘স্বৈরাচার রুখতে ও ক্ষমতার ভারসাম্য ফেরাতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলুন’

ছবি: সংগৃহীত

গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করতে রাষ্ট্র সংস্কার ও ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে দেশের সকল ভোটারকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। 

তিনি বলেন, শাসকগোষ্ঠীর পরিবর্তে ক্ষমতার ভর যদি প্রকৃত অর্থেই জনগণের হাতে রাখতে হয়, তবে এই সংস্কার প্রস্তাবনার পক্ষে রায় দেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।

রবিবার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশান-২ এ অবস্থিত নগর ভবনে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) আয়োজিত ‘নাগরিক দায়িত্ববোধ, সামাজিক সম্পৃক্ততা ও নগর উন্নয়ন’ বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

একই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দেশে ‘আয়নাঘর’ সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হলে প্রতিটি নাগরিককে গণভোটে অংশ নিতে হবে।

সংস্কার ও গণভোটের গুরুত্ব সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান তার বক্তব্যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সেদিন ভোটারদের দুটি ভোট দিতে হবে। একটি সংসদ নির্বাচনের জন্য, যেখানে পস্তাতে না হয় এমন যোগ্য প্রার্থী বেছে নিতে হবে। অন্যটি হলো দেশের ভবিষ্যতের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ গণভোট। যদি এ দেশের মানুষ সত্যিই সংস্কার চায় এবং ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করতে চায়, তবে উত্তরটি অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ হতে হবে। এই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করলে ক্ষমতার ভারসাম্য আনার পথ আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য রুদ্ধ হয়ে যেতে পারে। 

তিনি ভোটারদের ভয়ভীতি উপেক্ষা করে সচেতনভাবে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান।

তরুণ সমাজের ভূমিকা ও স্বৈরাচারবিরোধী চেতনা জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তরুণ সমাজ যেভাবে দেশকে স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্ত করেছে, সেই একই উদ্যমে তাদের গণতন্ত্রের ভিত গড়ে তুলতে হবে। 

আরও পড়ুন: সহিংসতা রুখতে ১৬ সংস্থার সঙ্গে ইসির সমন্বয় বৈঠক

তিনি বলেন, স্বৈরাচার বিদায় নিলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় না। অতীতেও ডক্টর মিলন বা নূর হোসেনদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন সফল হয়েছিল, কিন্তু নাগরিকরা তাদের ভোটাধিকার নিয়ে সচেতন না থাকায় গণতন্ত্র টেকসই হয়নি। তাই অতীতের অর্জন যেন বৃথা না যায়, সেজন্য তরুণদের সতর্ক থাকতে হবে।

ভয় জয় করার আহ্বান নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে জনমনে ভীতি ছড়ানোর অপচেষ্টা চলছে উল্লেখ করে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার জন্য এবং ভোটারদের ভীত করতে ইতোমধ্যে কিছু আলামত পাওয়া গেছে। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, ভয়কে জয় করেই জুলাই-আগস্টের বিপ্লব সফল হয়েছে। ভয়ের যে দেয়াল শাসকগোষ্ঠী তৈরি করে রেখেছে, তা এবারও ভেঙে ফেলতে হবে।

নাগরিক পদক প্রদান ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, আধিপত্যবাদের কাছে বাংলাদেশ আর কখনো মাথানত করবে না—এটাই বর্তমান সময়ের প্রধান আকাঙ্ক্ষা। নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত ব্যবস্থার অবসান চাইলে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে নাগরিক দায়িত্ববোধ ও নগর উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য ৮টি ক্যাটাগরিতে ১০ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘নাগরিক পদক-২০২৫’ প্রদান করা হয়। 

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহমুদুল হাসান, বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও লেখক সলিমুল্লাহ খান এবং ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়