ব্যালট ছিনতাই বা অনিয়ম হলেই ভোট বন্ধ: ইসি
ফাইল ছবি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়নে প্রস্তাবিত গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটগ্রহণ চলাকালে কোনো কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনতাই, নষ্ট বা জোরপূর্বক অপসারণের মতো ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নির্বাচন আয়োজনে মালামাল পরিবহন, নিরাপত্তা এবং এজেন্ট নিয়োগের বিষয়েও বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি) ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক পরিপত্রে এসব নির্দেশনা জারি করা হয়।
পরিপত্র অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ২৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রিটার্নিং অফিসাররা ভোটগ্রহণের সময় ও তারিখ উল্লেখ করে স্থানীয়ভাবে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করবেন। এছাড়া ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ অনুযায়ী প্রবাসী ও নির্দিষ্ট শ্রেণির ভোটাররা নির্ধারিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধনের মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালটে (ওসিভি ও আইসিপিভি) ভোট দিতে পারবেন।
ইসি স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রিজাইডিং অফিসারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে কোনো কারণে ভোটগ্রহণ বিঘ্নিত হলে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুনরায় শুরু করা সম্ভব না হলে ওই কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হবে। কোনো কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা হারিয়ে গেলে সেই কেন্দ্রের ভোট গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে না। বন্ধ ঘোষিত কেন্দ্রের ফল ছাড়া যদি সামগ্রিক নির্বাচনি ফলাফল নির্ধারণ করা সম্ভব না হয়, তবে কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে ওই কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণ করা হবে। এছাড়া বলপ্রয়োগ, ভীতি প্রদর্শন কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকলে কমিশন যেকোনো পর্যায়ে সম্পূর্ণ নির্বাচনি কার্যক্রম স্থগিত করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করে।
আরও পড়ুন: পাতানো নির্বাচনের সুযোগ নেই: সিইসি
ব্যালট পেপারের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস) থেকে জেলা-উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রেস থেকে ব্যালট সংগ্রহের সময় রিটার্নিং অফিসারকে অবশ্যই একজন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা ও প্রতিনিধি পাঠাতে হবে। পরিবহনের সময় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। ভোটগ্রহণের আগের দিন নির্ধারিত সময়ে প্রিজাইডিং অফিসাররা ব্যালট পেপার, মার্কিং সিল, অমোচনীয় কালিসহ সব সরঞ্জাম বুঝে নেবেন এবং কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করবেন। এক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে ইসি সচিবালয়কে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রতিটি ভোটকক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের একজন করে পোলিং এজেন্ট নিয়োগের সুযোগ থাকবে। প্রার্থী তার নির্বাচনী এলাকার যোগ্য যেকোনো ভোটারকে এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবেন। ভোটগ্রহণ শুরু থেকে গণনা শেষ পর্যন্ত এবং পোস্টাল ব্যালট গণনার সময়ও এজেন্টদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ভোট গণনা শেষে প্রিজাইডিং অফিসার ভোটের হিসাব সম্বলিত প্রত্যয়িত অনুলিপি এজেন্টদের প্রদান করবেন। এছাড়া প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক করে আচরণ বিধিমালা ও নির্বাচনী ব্যয়ের বিধান সম্পর্কে অবহিত করতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক সম্বলিত পরিবেশবান্ধব ব্যানার প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গণভোটের জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে পৃথক ব্যানার থাকবে, যেখানে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ এবং সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। ভোটগ্রহণ শেষে গণনার বিবরণীর একটি কপি বিশেষ খামে করে ডাকযোগে সরাসরি কমিশনে পাঠাতে হবে। এই কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে নির্বাচনের দিন পোস্ট অফিসগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








