News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:২৬, ৯ জানুয়ারি ২০২৬

বাঘ-হাতি শিকারে জেল জরিমানাসহ নতুন অধ্যাদেশ জারি

বাঘ-হাতি শিকারে জেল জরিমানাসহ নতুন অধ্যাদেশ জারি

ছবি: সংগৃহীত

দেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং বন্যপ্রাণী নিধন বন্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বাঘ বা হাতি শিকারের মতো অপরাধের পুনরাবৃত্তি করলে সর্বোচ্চ ১২ বছরের কারাদণ্ড এবং ১৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রেখে ‘বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) অধ্যাদেশ’ জারি করা হয়েছে। 

বুধবার (০৭ জানুয়ারি) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশটি কার্যকর করেছে।

নতুন আইনের ৪১(১) ধারা অনুযায়ী, বাঘ (বেঙ্গল টাইগার) বা হাতি (এশিয়ান এলিফ্যান্ট) শিকারের জন্য সর্বনিম্ন দুই বছর এবং সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একই অপরাধ পুনরায় সংঘটিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১২ বছর কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

এছাড়া ৪১(২) ধারায় বলা হয়েছে, বাঘ বা হাতির ট্রফি, মাংস বা দেহাংশ অনুমতি ছাড়া সংগ্রহ, পরিবহন বা কেনাবেচা করলে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান থাকবে। একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন অধ্যাদেশে অন্যান্য সংরক্ষিত ও গুরুত্বপূর্ণ বন্যপ্রাণী শিকারের ক্ষেত্রেও শাস্তির বিধান নির্ধারণ করা হয়েছে। ভালুক, নেকড়ে, রাম কুকুর, খেকশিয়াল, বনবিড়াল, চিতা, চিতা বাঘ, চিতা বিড়াল, ভোঁদড়, বানর, হনুমান, বনরুই, সজারু, খরগোশ, হরিণ, শকুন, তিমি, ঈগল, হঁড়গিলা, টিয়া, কুমির, কাছিম, কচ্ছপ, গিরগিটি, তক্ষক, অজগর ও হাঙ্গর শিকারের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একই অপরাধ দ্বিতীয়বার ঘটলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে।

আরও পড়ুন: বনের নিষিদ্ধ গাছ কাটলে ১ লাখ টাকা জরিমানা, অধ্যাদেশ জারি

অধ্যাদেশে অভয়ারণ্য ও জাতীয় উদ্যানের সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মতামত গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে রক্ষিত এলাকার দুই কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অভয়ারণ্যের ভেতরে চাষাবাদ, খনিজ সম্পদ আহরণ, আগুন লাগানো এবং আগ্রাসী প্রজাতির বিদেশি উদ্ভিদ প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বননির্ভর জনগোষ্ঠীর প্রথাগত অধিকার ও জীবিকার প্রয়োজন বিবেচনায় ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে।

নতুন আইনে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন বৃক্ষ, ঐতিহ্যবাহী স্মারক বৃক্ষ, পবিত্র বৃক্ষ এবং প্রথাগত ‘কুঞ্জবন’ সংরক্ষণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জীবন রক্ষার প্রয়োজন ছাড়া এসব বৃক্ষ বা বন ধ্বংস করা যাবে না। এ বিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্যপ্রাণী কেনাবেচার বিজ্ঞাপন দেওয়া বা বন্যপ্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণের ভিডিও প্রকাশ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। লাইসেন্স বা পজেশন সার্টিফিকেট ছাড়া কোনো বন্যপ্রাণী বা ট্রফি—যেমন চামড়া, হাড়, দাঁত—নিজের দখলে রাখা বা কেনাবেচা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বন্যপ্রাণীর উদ্ধার, শুশ্রুষা ও সংরক্ষণের জন্য সরকার একটি ‘বন্যপ্রাণী ট্রাস্ট ফান্ড’ গঠন করবে বলেও অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যপ্রাণী পাচার রোধে বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও সমুদ্রবন্দরগুলোতে পুলিশ, কাস্টমস ও বিজিবির সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ‘বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট’ কাজ করবে। বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত আইনি ও বৈজ্ঞানিক জটিলতা নিরসনে একটি ‘বৈজ্ঞানিক কমিটি’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সাইটিস কর্তৃপক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবে।

অধ্যাদেশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে বলা হয়েছে, এই আইন প্রণয়নের আগে প্রথাগত ঐতিহ্য হিসেবে তাদের সংগৃহীত বন্যপ্রাণীর ট্রফি বা স্মৃতিচিহ্নের ক্ষেত্রে জব্দকরণের বিধান প্রযোজ্য হবে না।

নতুন আইনে বন কর্মকর্তাদের ম্যাজিস্ট্রেটের পূর্বানুমতি ছাড়াই অপরাধীকে গ্রেফতার করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জব্দ করা দ্রুত পচনশীল দ্রব্য তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস বা অপসারণের সুযোগ রাখা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ পাবেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়