News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১১:৪৮, ৮ জানুয়ারি ২০২৬

শিগগিরই চূড়ান্ত হতে পারে সমন্বিত অংশীদারিত্ব চুক্তি: ইইউ

শিগগিরই চূড়ান্ত হতে পারে সমন্বিত অংশীদারিত্ব চুক্তি: ইইউ

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে দীর্ঘ দুই দশকের সাধারণ সহযোগিতার সম্পর্ক এবার একটি ‘সমন্বিত অংশীদারিত্ব চুক্তির’ (পিসিএ) মাধ্যমে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে যাচ্ছে। চলমান এই আলোচনার অগ্রগতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে ঢাকা সফররত ইইউর এক শীর্ষ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। 

বুধবার (০৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ইউরোপীয় এক্সটারনাল অ্যাকশন সার্ভিসের (ইইএএস) এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাওলা পাম্পালোনি এই ইতিবাচক ইঙ্গিত দেন।

বৈঠকের মূল কেন্দ্রে ছিল বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্কের সার্বিক উন্নয়ন এবং ‘সমন্বিত অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা কাঠামো চুক্তি’ (পিসিএ)। 

পাওলা পাম্পালোনি উল্লেখ করেন, বিগত ২০ বছর ধরে বিদ্যমান সাধারণ কাঠামোর পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে এই নতুন পিসিএ চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়। পিসিএ চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে দুই পক্ষের মধ্যে কেবল বাণিজ্যিক সুবিধাই বাড়বে না, বরং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে। 

অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারমূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে গৃহীত ব্যাপক সংস্কার উদ্যোগগুলো ইইউর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তারা এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী সংস্কার প্রক্রিয়াকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট। 

পাওলা পাম্পালোনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ইইউ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং তার প্রতিফলন হিসেবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন পর্যবেক্ষণে একটি উচ্চপর্যায়ের বড় পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠানো হবে। এই মিশনের প্রধান চলতি সপ্তাহেই ঢাকা পৌঁছাবেন এবং দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় মতবিনিময় করবেন। 

আরও পড়ুন: ‘সত্যকে চাপা দেওয়া যায় না, ডিএনএ শনাক্তকরণই তার প্রমাণ’

ইইউ প্রতিনিধি দল মনে করে, একটি সফল ও শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক উত্তরণ ঢাকা ও বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনৈতিক জোট ইইউ-এর মধ্যে সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করবে।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গত ১৭ মাস ধরে অন্তর্বর্তী সরকারকে ইইউ-এর ধারাবাহিক সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। 

তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। দীর্ঘ সময় ভোটাধিকার বঞ্চিত থাকার পর এবার জনগণ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ‘জুলাই সনদের’ প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে এবং তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাবে। 

তিনি বিশ্বাস করেন, কোনো দলই ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেবে না।

নির্বাচন ও পিসিএ চুক্তির পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে বৈঠকে বিশদ আলোচনা হয়। অধ্যাপক ইউনূস পিসিএ চুক্তিকে বাংলাদেশের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেন। 

ইইউ প্রতিনিধি দল নিশ্চিত করেছে যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে তারা দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে পাশে থাকবে।

উল্লেখ্য, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সৌজন্য সাক্ষাতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার উপস্থিত ছিলেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়