News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১১:৩০, ৮ জানুয়ারি ২০২৬

আসন্ন নির্বাচনের ‘কিংমেকার’ সাড়ে ৪ কোটি তরুণ ভোটার

আসন্ন নির্বাচনের ‘কিংমেকার’ সাড়ে ৪ কোটি তরুণ ভোটার

ফাইল ছবি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারণে দেশের তরুণ ভোটাররা মূল নিয়ামক হিসেবে আবির্ভূত হতে চলেছেন। 

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সর্বশেষ তথ্যমতে, বর্তমানে ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার কোটি, যা মোট ভোটারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। ডিজিটাল প্রযুক্তিতে দক্ষ ও সচেতন এই প্রজন্ম প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই ও নীতি-প্রণয়নকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে, ফলে নির্বাচনের ফলাফলেও তাদের প্রভাব অপরিসীম হবে।

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের ভোটার তালিকার হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৮-২১ বছর বয়সী ভোটার ৮৫ লাখ ৩১ হাজার ৫৩৮, ২২-২৫ বছর বয়সী ভোটার ১ কোটি ১৯ লাখ ৬২ হাজার ১০৬, ২৬-২৯ বছর বয়সী ১ কোটি ২১ লাখ ৬৬ হাজার ১৬২ এবং ৩০-৩৩ বছর বয়সী ভোটার ১ কোটি ৬ লাখ ৮৬ হাজার ৬১৫ জন। মোট তরুণ ভোটারের সংখ্যা এইভাবে প্রায় সাড়ে চার কোটির কাছাকাছি পৌঁছেছে।

নির্বাচন কমিশনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সী ভোটারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যা ২৬ থেকে ২৯ বছর বয়সীর। এরপরেই রয়েছে ২২ থেকে ২৫ বছর বয়সী ভোটার, যেখানে মিলিতভাবে প্রায় আড়াই কোটি ভোটারের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ও অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা জজ ড. মো. শাহজাহান বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান জনতাত্ত্বিক কাঠামো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটাররাই প্রকৃত ‘কিংমেকার’ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছেন। মোট ভোটারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই তরুণ, যা যেকোনো রাজনৈতিক দলের ভাগ্য বদলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

আরও পড়ুন: সংস্কার রক্ষায় গণভোট: ইসিকে মাঠে নামার আহ্বান

তরুণ ভোটাররা প্রথাগত রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে গিয়ে কর্মসংস্থান, মানসম্মত শিক্ষা, আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা, স্বচ্ছতা এবং সুশাসনের মতো বিষয়গুলোতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। শহর থেকে গ্রাম—প্রত্যেক স্থানে তরুণ ভোটারদের প্রভাব দৃশ্যমান। বিশেষ করে নতুন ভোটারদের মধ্যে বিদ্যমান পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নির্বাচনের ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

ইসির হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ভোটারদের বয়সভিত্তিক চিত্র দেখানো গেছে। মধ্যবয়সী এবং প্রবীণ ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ৩৪-৩৭ বছর বয়সী ভোটার রয়েছেন ১ কোটি ২৩ লাখ ৬ হাজার ৭৫৫, ৩৮-৪১ বছর বয়সী ১ কোটি ৩০ লাখ ২৬ হাজার ৪৫০, ৪২-৪৫ বছর বয়সী ১ কোটি ২৩ লাখ ২৩ হাজার ৪২, ৪৬-৪৯ বছর বয়সী ৯২ লাখ ৩৯ হাজার ৭২৩, ৫০-৫৩ বছর বয়সী ৮০ লাখ ৫৪ হাজার ৫৬০, ৫৪-৫৭ বছর বয়সী ৬৩ লাখ ৪২ হাজার ২৮, ৫৮-৬০ বছর বয়সী ৫১ লাখ ৮১ হাজার ১০৩ এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সী ভোটার ১ কোটি ৯৩ লাখ ৫১ হাজার ৯৯৪ জন।

অঞ্চলভিত্তিক ভোটারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকা অঞ্চলে, যেখানে ভোটার সংখ্যা ১ কোটি ৮৩ লাখ ৪৪ হাজার ৯৬৫। এরপরে রাজশাহী (১ কোটি ৬৩ লাখ ৭৮ হাজার ৮০), ময়মনসিংহ (১ কোটি ৬৩ লাখ ৯ হাজার ২৭১), কুমিল্লা (১ কোটি ৫৭ লাখ ৬৮ হাজার ৫০), খুলনা (১ কোটি ৪২ লাখ ৩৫ হাজার ৬১০), রংপুর (১ কোটি ৪১ লাখ ৮৪ হাজার ১২২), চট্টগ্রাম (৯৯ লাখ ১১ হাজার ৩২০), সিলেট (৮৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮২২), বরিশাল (৭৯ লাখ ৮১ হাজার ১২৭) এবং ফরিদপুর অঞ্চলে সবচেয়ে কম ৬১ লাখ ৫৩ হাজার ৫২৬ জন।

ড. শাহজাহান বলেন, ঢাকা অঞ্চলের প্রায় দুই কোটি ভোটারের উপস্থিতি রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ। ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা এই অঞ্চলের ভোটাররা সাধারণত জাতীয় ইস্যুগুলোতে বেশি সংবেদনশীল। ফরিদপুরের মতো ছোট এলাকায় প্রতিটি ভোটই অত্যন্ত মূল্যবান। নির্বাচনের প্রকৃত মোড় তখনই ঘুরবে, যখন কোনো দল তরুণদের উচ্ছ্বাস এবং প্রবীণদের আস্থার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য তৈরি করতে পারবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পুরনো ধাঁচের রাজনীতি দিয়ে এই বিশাল তরুণ গোষ্ঠীকে আকর্ষণ করা সম্ভব নয়। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে এখন প্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং, জলবায়ু পরিবর্তন, শিক্ষা সংস্কার এবং আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধার মতো বিষয়গুলো প্রাধান্য পাচ্ছে। তরুণ ভোটারের মনস্তত্ত্ব বুঝতে পারা এবং তাদের ভাষায় কথা বলা প্রার্থীরাই আগামী ক্ষমতার সমীকরণ নির্ধারণ করবেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়