তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কবলে দেশ, তাপমাত্রা নামবে ৬ ডিগ্রিতে
ফাইল ছবি
সারাদেশে জেঁকে বসতে শুরু করেছে হাড়কাঁপানো শীত। ঘন কুয়াশার চাদর আর হিমেল বাতাসের দাপটে স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন।
আবহাওয়া বিশ্লেষক ও সরকারি আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামীকাল বুধবার (৭ জানুয়ারি) দেশের অন্তত পাঁচটি বিভাগে শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে এবং দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহের চিত্র বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, বুধবার সকাল ৬টার দিকে রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। এছাড়া ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জেলাতেও শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা বৃদ্ধির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
একই ধরনের সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সংস্থাটির মতে, চলতি জানুয়ারি মাসে দেশের ওপর দিয়ে একাধিক শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। কিছু কিছু এলাকায় পারদ নেমে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
আরও পড়ুন: সাগরে লঘুচাপ, ১০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত
আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত থেকেই তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে এবং চলতি মাসে দেশে অন্তত এক থেকে দুটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ আঘাত হানতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ চিত্র অনুযায়ী, দেশের ৬১টি জেলার আকাশ এখন কুয়াশার দখলে। শুধুমাত্র ফেনী, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলা এই ঘন কুয়াশার বলয়ের বাইরে রয়েছে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকেই চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ বাদে বাকি ছয়টি বিভাগ মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়তে পারে। চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
কুয়াশার কারণে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের জনপদে সূর্যের দেখা মেলাও কঠিন হয়ে পড়বে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ১২টার আগে রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে সূর্যের আলো পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে অন্যান্য বিভাগগুলোতে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে কুয়াশা ভেদ করে রোদের দেখা মিলতে পারে।
ভোরের আলো ফোটার আগেই হিমেল বাতাসে জমে উঠছে শীতের তীব্রতা। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে কনকনে ঠান্ডায় সাধারণ মানুষের হাত-পা জমে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে। কুয়াশার কারণে সড়ক ও নৌ-পথে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নিম্নবিত্ত ও খেটে খাওয়া মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। আবহাওয়া দপ্তরের এমন পূর্বাভাসে জনমনে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








