শেষ হচ্ছে মনোনয়নপত্র বাছাই, আপিল দায়েরে ৭ নির্দেশনা ইসির
ফাইল ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ রবিবার (০৪ জানুয়ারি) শেষ হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের জনসংযোগ পরিচালক ও তথ্য কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানিয়েছেন, আজ মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে সারা দেশে কতগুলো মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে এবং কতগুলো বাতিল হয়েছে—তার সারসংক্ষেপ প্রকাশ করা হবে।
ইসির পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত চলেছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিল সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ কোনো প্রার্থী, কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কোনো সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান অথবা প্রার্থী কর্তৃক লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন।
আপিল দায়েরের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি ২০২৬, প্রতিদিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো চিঠি অনুযায়ী, আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত সাতটি নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে,
১. আপিল আবেদন কমিশনকে সম্বোধন করে স্মারকলিপি আকারে, নির্ধারিত ফরম্যাটে দাখিল করতে হবে।
২. আপিল দায়েরকালে মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের তারিখ, আপিলের কারণ সংবলিত বিবৃতি এবং সংশ্লিষ্ট আদেশের সত্যায়িত কপি সংযুক্ত করতে হবে।
৩. আপিল আবেদনের একটি মূল কপিসহ মোট সাতটি কপি দাখিল করতে হবে।
৪. আপিল আবেদন নির্বাচন কমিশনের আপিল আবেদন গ্রহণ সংক্রান্ত কেন্দ্রে, স্ব স্ব অঞ্চলের নির্ধারিত বুথে জমা দিতে হবে।
৫. আপিল আবেদন ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে দাখিল করতে হবে।
৬. আপিল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বা রায়ের কপি পাওয়ার জন্য নির্ধারিত ফরমে আলাদা আবেদন করতে হবে। ফরমের নমুনা পাওয়া যাবে নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় বুথ থেকে।
৭. আপিল দায়েরকারী অথবা তার পক্ষে মনোনীত ব্যক্তি আপিলের রায়ের কপি সংগ্রহ করতে পারবেন।
মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে দাখিলকৃত সব আপিল নির্বাচন কমিশন ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যে নিষ্পত্তি করবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের পক্ষে ইশতেহারে সুস্পষ্ট করতে হবে: বদিউল আলম
আপিল গ্রহণের জন্য আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে মোট ১০টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। অঞ্চলভিত্তিক বুথ বিন্যাস অনুযায়ী—
১ নম্বর বুথ: খুলনা অঞ্চল—মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা
২ নম্বর বুথ: রাজশাহী অঞ্চল—জয়পুরহাট, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা
৩ নম্বর বুথ: রংপুর অঞ্চল—পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা
৪ নম্বর বুথ: চট্টগ্রাম অঞ্চল—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান
৫ নম্বর বুথ: কুমিল্লা অঞ্চল—ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর
৬ নম্বর বুথ: সিলেট অঞ্চল—সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ
৭ নম্বর বুথ: ঢাকা অঞ্চল—টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ
৮ নম্বর বুথ: ময়মনসিংহ অঞ্চল—জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা
৯ নম্বর বুথ: বরিশাল অঞ্চল—বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর
১০ নম্বর বুথ: ফরিদপুর অঞ্চল—রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর
এর আগে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিএনপি, জাতীয় পার্টি (জাপা), জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ মোট ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল দেশের বিভিন্ন আসনে ২ হাজার ৯১টি মনোনয়নপত্র দাখিল করে।
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের যাচাই-বাছাইয়ে ইতোমধ্যে বিএনপি প্রধান তারেক রহমান, জামায়াতের আমির মো. শফিকুর রহমান, এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, খেলাফত মজলিসের মামুনুল হকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একাধিক শীর্ষ নেতার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
তবে নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ না হওয়ায় বিভিন্ন কারণে অনেক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিলও করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, দলীয় মনোনীত প্রার্থী, স্বতন্ত্র প্রার্থী, তাঁদের পক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং সরকারি সুবিধাভোগী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সবাইকে ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








