News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:০১, ২ মার্চ ২০২৬

সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ রোধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি

সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ রোধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি

ফাইল ছবি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা অক্ষুণ্ণ রাখার দাবি তুলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ভাষণ দেওয়া থেকে বিরত রাখার অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে চিঠি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির। 

সোমবার (০২ মার্চ) সরকারি ডাকযোগে পাঠানো ওই চিঠিতে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা, সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং সাংবিধানিক অবস্থান নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে ধরে বিকল্প উপায়ে অধিবেশন পরিচালনা বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানের সময় রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। পাশাপাশি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা এবং পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে অনুশোচনা প্রকাশ না করার অভিযোগও তোলা হয়। 

আরও বলা হয়, ২০ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি কেবল জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে খাটো করেননি, বরং প্রকৃত ঘটনাবলি সম্পর্কেও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করেছেন। এতে তিনি সাংবিধানিক শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে অব্যাহত থাকার আইনি ভিত্তি হারিয়েছেন এমন দাবিও চিঠিতে করা হয়।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো আবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানের স্পিরিট সমুন্নত রাখতে রাষ্ট্রপতিকে জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান বা উদ্বোধনী অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার অনুমতি না দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। বিকল্প হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে, সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে একজনকে স্পিকার নির্বাচিত করে তার মাধ্যমে অধিবেশন আহ্বান ও ভাষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। অন্যথায় প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজন ও সুবিধা অনুযায়ী যথাযথ সাংবিধানিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এ প্রত্যাশাও ব্যক্ত করা হয়েছে। চিঠির শেষাংশে দাবি করা হয়, এই অনুরোধ কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

এদিকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন। ওই দিন বেলা ১১টায় অধিবেশন শুরুর কথা রয়েছে। 

সংবিধান অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের বৈঠক আহ্বান করতে হয়।

সাধারণত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন দীর্ঘ হয়। উদ্বোধনী বৈঠকে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশ উত্থাপন, শোক প্রস্তাব গ্রহণ এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণ অন্তর্ভুক্ত থাকে। অধিবেশনজুড়ে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা করেন সংসদ সদস্যরা।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রায় দেড় বছর পর চলতি মাসের ১২ তারিখ অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি।

প্রথা অনুযায়ী বিদায়ী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন সংসদের প্রথম বৈঠক শুরু হয়ে থাকে এবং সেখানে নতুন স্পিকার নির্বাচন করা হয়। তবে এবার কে সভাপতিত্ব করবেন তা স্পষ্ট নয়। দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগের পর প্রকাশ্যে আসেননি। বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন। ফলে সংসদের প্রথম বৈঠকের কার্যপ্রণালি নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়