News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:৫৭, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আপডেট: ১৩:৫৭, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

১৩ ঘণ্টার ব্যবধানে দু’বার কাঁপল দেশ: উৎপত্তিস্থল সিকিম ও মিয়ানমার

১৩ ঘণ্টার ব্যবধানে দু’বার কাঁপল দেশ: উৎপত্তিস্থল সিকিম ও মিয়ানমার

ফাইল ছবি

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে মাত্র ১৩ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। 

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে এবং বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পরপর ঘটা এই কম্পনে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। 

আবহাওয়া অধিদপ্তর ও আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুভূত হওয়া কম্পনটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের সিকিমে এবং বুধবার রাতের কম্পনটির কেন্দ্র ছিল মিয়ানমারে। তবে এখন পর্যন্ত দেশের কোথাও বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ৪ মিনিট ৫ সেকেন্ডে সারা দেশে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। 

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৬। 

সংস্থাটির সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা জানান, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে ৪৫৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ভারতের সিকিম রাজ্যে।

আরও পড়ুন: সিলেটে ৪ মাত্রার মৃদু ভূমিকম্প

ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্র (ইএমএসসি) এই কম্পনের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানায়, এর অবস্থান ছিল ২৭.২১১ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৮৮.২১৫ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার। গভীরতা কম হওয়ায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু কম্পনটি বেশ স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়। আতঙ্কে অনেক এলাকায় সাধারণ মানুষকে ঘরবাড়ি ও অফিস ছেড়ে খোলা জায়গায় বেরিয়ে আসতে দেখা যায়।

এর আগে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টা ৫১ মিনিটে ঢাকাসহ সারা দেশে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। 

আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং ইএমএসসির তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.১। এর উৎপত্তিস্থল ছিল প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলে, যা ঢাকা থেকে প্রায় ৪৬২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন যে, বুধবার রাতের কম্পনটি ছিল মাঝারি মাত্রার। 

ইএমএসসির তথ্যমতে, এর অবস্থান ছিল ২৩.০৪১১ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯৪.৭২৬৮ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ১০১ কিলোমিটার। কম্পনের গভীরতা বেশি হওয়ায় তা অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। তবে ভৌগোলিক কারণে কক্সবাজার ও এর পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে কম্পনের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়েছে।

একই দিনে দুই দফা কম্পন অনুভূত হওয়ায় নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিলেও প্রাথমিক তথ্যে কোনো প্রাণহানি বা কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ পাওয়া যায়নি। আবহাওয়া অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের মৃদু ও মাঝারি ভূমিকম্পের পর বড় কোনো বিপর্যয়ের আশঙ্কা না থাকলেও সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়