News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৪০, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

‘বাংলাদেশকে ভালো রাখতে খালেদা জিয়াকে আত্মস্থ করতে হবে’

‘বাংলাদেশকে ভালো রাখতে খালেদা জিয়াকে আত্মস্থ করতে হবে’

ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, বেগম জিয়ার মধ্যে অসাধারণ সব মানবিক ও রাজনৈতিক গুণাবলি ছিল। তিনি ছিলেন সততা, দৃঢ় সংকল্প, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের এক অনন্য প্রতীক। 

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এই শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মধ্যে অনেক অসাধারণ বৈশিষ্ট্য ছিল। উনি সৎ ছিলেন, দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন, আত্মত্যাগী ছিলেন এবং দেশপ্রেমিক ছিলেন। ওনার মধ্যে রুচির এক অবিস্মরণীয় প্রকাশ ছিল। তিনি পরমতসহিষ্ণু ছিলেন। বাংলাদেশকে ভালো রাখতে হলে খালেদা জিয়াকে আত্মস্থ করতে হবে।

আইন উপদেষ্টা আরও স্মরণ করেন, খালেদা জিয়া জীবিত থাকাকালে যখন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার পক্ষে কথা বলার সুযোগ হয়েছে, তখনও যথাযথ সমর্থক পাওয়া কঠিন হয়েছিল। 

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া যখন জীবিত ছিলেন, বন্দি ছিলেন, ওনার পক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কথা বলার সুযোগ হয়েছে। কিন্তু তখন ওনার পক্ষে কথা বলার মানুষ খুঁজে পাওয়া যেত না।

ড. আসিফ নজরুল খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে হওয়া বিচারকর্ম সম্পর্কেও মন্তব্য করেন। 

আরও পড়ুন: জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তির অধ্যাদেশ অনুমোদন

তিনি বলেন, ওনার একটি অদ্ভুত, উদ্ভট বিচার হয়েছে। সেই বিচারে উনি শকড হয়েছেন অন্য পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য শুনে। উনি অবাক হয়ে বলেছিলেন, ‘আমি মেরে খেয়েছি এতিমের টাকা?’ এই বিস্মিত ও ব্যথিত বক্তব্যটিকে বিচারক লিখেছেন, এবং বেগম জিয়া নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি এই কাজটি করেছেন।

আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, আমি আইনের ছাত্র হিসেবে বলি, এত জঘন্য একটি বিচার হয়েছে। এর বিপক্ষে বিবৃতি লিখে দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি, ফোন করেছি বিভিন্ন মানুষকে, কিন্তু হাইকোর্টে কী করা হবে না হবে এই ভয়ে চারজনের বেশি রাজি হয়নি। চারজনের তো বিবৃতি হয় না, এজন্য পত্রিকায় ধরানোও সম্ভব হয়নি।

ড. আসিফ নজরুল খালেদা জিয়ার মুমূর্ষু অবস্থার সময় বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে তার প্রচেষ্টা সম্পর্কেও উল্লেখ করেন। 
তিনি বলেন, উনি যখন মুমূর্ষু অবস্থায় ছিলেন, তখন ওনাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর অনুরোধ করেছি। অনেকের ইচ্ছা ছিল, কিন্তু সাহস করেননি। আজকে ভালো লাগছে যে, আমরা সবাই মুক্তভাবে বেগম জিয়ার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারছি।

তিনি আরও বলেন, আজকের বাংলাদেশে মানুষ স্বাধীনভাবে ঘৃণাও প্রকাশ করতে পারছে, স্বাধীনভাবে ভালোবাসাও প্রকাশ করতে পারছে। এজন্যই এক নেত্রীর স্থান মানুষের হৃদয়ে, আরেকজনের স্থান বিতাড়িত ভূমিতে।

শোকসভায় বক্তব্য শেষে ড. আসিফ নজরুল আবারও খালেদা জিয়ার গুণাবলীর প্রশংসা করেন। 

তিনি বলেন, উনার মধ্যে দেশপ্রেম, সততা, দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ও আত্মত্যাগের বৈশিষ্ট্য ছিল। রুচির এক অবিস্মরণীয় প্রকাশ ছিল এবং উনি পরমতসহিষ্ণু ছিলেন। বাংলাদেশকে ভালো রাখতে হলে খালেদা জিয়াকে আত্মস্থ করতে হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়