News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৫০, ১২ জানুয়ারি ২০২৬

বিতর্কিত তিন নির্বাচনের তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা

বিতর্কিত তিন নির্বাচনের তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা

ছবি: সংগৃহীত

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত তিনটি বিতর্কিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪) নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দিয়েছে। 

সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। পরে যমুনার বাইরে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে কমিশনের সদস্যরা বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালের পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে পদ্ধতিগতভাবে অনিয়ম ও দুর্নীতির একটি সুসংগঠিত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছিল। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত এসব নির্বাচনে জনমতের প্রতিফলন ঘটেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। কমিশনের বিশ্লেষণে নির্বাচনের অবৈধতা, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সংস্থার হস্তক্ষেপ, ভোটের গুণগত মান এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার চিত্র স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

বিচারপতি শামীম হাসনাইনের নেতৃত্বে গঠিত এই তদন্ত কমিশন গত বছরের ২৯ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ তদন্ত ও তথ্য সংগ্রহের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করে। প্রতিবেদনে বিগত ১৫ বছরের নির্বাচনি ব্যবস্থার ত্রুটি ও দায়বদ্ধতা নির্ধারণের চেষ্টা করা হয়েছে। 

আরও পড়ুন: বিদেশের ৪ মিশনে প্রেস সচিবদের অবিলম্বে ফেরার নির্দেশ

কমিশনের পক্ষ থেকে সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে কীভাবে কুক্ষিগত করা হয়েছিল এবং প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়মগুলো কীভাবে সাজানো হয়েছিল, তার পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রার্থিতা যাচাই-বাছাইয়ের ফলাফলেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ৪১ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন, অন্যদিকে বিভিন্ন কারণে অযোগ্য ঘোষিত হয়ে প্রার্থিতা হারিয়েছেন আরও ২৫ জন। 

কমিশনের মতে, এই প্রক্রিয়া নির্বাচনি সংস্কার ও আইনি পর্যালোচনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতির ইঙ্গিত বহন করছে।

প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশের নির্বাচনি সংস্কার ও গত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের আইনি পর্যালোচনার পথে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। 

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রতিবেদন প্রকাশের পর নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, প্রার্থিতা পুনর্বিবেচনা এবং নির্বাচনি সংস্কারের জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পদক্ষেপের গুরুত্ব আরও বাড়বে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়