চীন-বাংলাদেশের ওপর নজর রাখতে নতুন নৌঘাঁটি বানাচ্ছে ভারত
ফাইল ছবি
বাংলাদেশের সঙ্গে চীন ও পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতায় উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে ভারত। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও চীনের তৎপরতার ওপর নজরদারি জোরদার করতে নতুন একটি নৌঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। পশ্চিমবঙ্গের বন্দরনগরী হলদিয়ায় এই নৌঘাঁটি স্থাপন করা হবে।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
প্রতিবেদনে ভারতের নৌবাহিনীর একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়, সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরের উত্তরাঞ্চলে চীনা নৌবাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বাড়ছে। বাংলাদেশের উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক পাকিস্তান সফরও ভারতের উদ্বেগের কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই নতুন নৌঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
প্রস্তাবিত নৌঘাঁটিটি কলকাতা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হবে। হলদিয়ায় ঘাঁটি স্থাপন করা হলে হুগলি নদী হয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই বঙ্গোপসাগরে পৌঁছাতে পারবে ভারতীয় নৌবাহিনী।
নৌঘাঁটি নির্মাণে হলদিয়া ডক কমপ্লেক্স ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে একদিকে নৌবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়বে, অন্যদিকে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজনও তুলনামূলকভাবে কমবে।
ভারতীয় নৌবাহিনী সূত্র জানায়, নতুন এই ঘাঁটিতে মোতায়েন করা হবে একাধিক ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফট (এফআইসি) এবং নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট (এনডব্লিউজেএফএসি)। এসব দ্রুতগামী সামরিক নৌযান ও যুদ্ধজাহাজের গতি হবে ঘণ্টায় ৭৪ থেকে ৮৩ কিলোমিটার (৪০–৪৫ নট)।
এফআইসি ও এনডব্লিউজেএফএসি সিরিজের যুদ্ধজাহাজগুলো বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির সামরিক নৌযানের মধ্যে অন্যতম। এসব নৌযানে সিআরএন-৯১ স্বয়ংক্রিয় মেশিনগানসহ ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘নাগাস্ত্র’ সুইসাইডাল ড্রোন সিস্টেম সংযোজন করা হবে।
আরও পড়ুন: হাসিনা ২০০৮ সালের নির্বাচনে হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেন: দুদক চেয়ারম্যান
প্রস্তাবিত নৌঘাঁটিতে সার্বক্ষণিকভাবে প্রায় ১০০ জন নৌ কর্মকর্তা ও সেনা সদস্য মোতায়েন থাকবেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে চীনা যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি বৃদ্ধি, বাংলাদেশ-চীন সামরিক সহযোগিতা সংক্রান্ত সাম্প্রতিক চুক্তি এবং চীনের ঘনিষ্ঠ মিত্র পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘন ঘন যোগাযোগ—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে নতুন নৌঘাঁটি নির্মাণে এগিয়েছে ভারত।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








