News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:৩৫, ৯ জানুয়ারি ২০২৬

‘দায়িত্ব শেষে জবাবদিহিতা বা কাঠগড়ায় দাঁড়াতে ভয় নেই’

‘দায়িত্ব শেষে জবাবদিহিতা বা কাঠগড়ায় দাঁড়াতে ভয় নেই’

ফাইল ছবি

দীর্ঘ ৫৪ বছরের পুঞ্জীভূত সমস্যা বা ‘জঞ্জাল’ মাত্র দেড় বছরের অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তবে এই সীমিত সময়ের মধ্যে সরকার পরিবেশ রক্ষায় সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে কাজ করেছে দাবি করে তিনি বলেন, অর্পিত দায়িত্ব পালন শেষে যেকোনো জবাবদিহিতা বা কাঠগড়ায় দাঁড়াতে তার কোনো দ্বিধা নেই।

শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে (কেআইবি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পরিবেশ সংস্কার: প্রয়োজনীয়তা ও করণীয়’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান তার বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। 

তিনি উল্লেখ করেন, পলিথিন নিষিদ্ধের আইন দেশে আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল, কিন্তু এর আগে কোনো সরকার তা কঠোরভাবে কার্যকর করতে পারেনি। বর্তমান সরকার সাহসিকতার সাথে সেই আইন বাস্তবায়ন করেছে এবং এটিই প্রকৃত সংস্কারের উদাহরণ। এছাড়া সেন্টমার্টিনে পর্যটন ও পরিবেশ রক্ষায় গৃহীত পদক্ষেপের ফলে দ্বীপটির প্রাণবৈচিত্র্য ফিরে আসতে শুরু করেছে বলে তিনি জানান। 

তবে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সেন্টমার্টিনের এই ইতিবাচক পরিবর্তনের পক্ষে কোনো পরিবেশবাদীকে শক্ত অবস্থানে দাঁড়াতে দেখা যায়নি।

আরও পড়ুন: নাগরিক ভোগান্তি কমাতে এক ছাদের নিচেই মিলবে সরকারি সব সেবা: ফয়েজ আহমদ

নদী ও খাল রক্ষায় সরকারের চলমান অভিযানের তথ্য তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান, দেশের গুরুত্বপূর্ণ চারটি নদী এবং ২০টি খাল দূষণের জন্য দায়ী এমন ৭৫০টি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ইতিমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। 

বায়ুদূষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বায়ুদূষণ রোধে আমরা যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছি, তা যদি পরবর্তী তিন বছর একইভাবে বজায় রাখা সম্ভব হয়, তবে দেশে দূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকার পান্থকুঞ্জ পার্কে র‍্যাম্প স্থাপন নিয়ে চলমান জটিলতা প্রসঙ্গে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান স্পষ্ট করেন যে, এই র‍্যাম্প নির্মাণের মূল সিদ্ধান্তটি ছিল বিগত সরকারের। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সেখানে র‍্যাম্প না করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং ইতিমধ্যে আদালতও এই কাজের ওপর স্থগিতাদেশ প্রদান করেছেন। 

তবে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে এটি পুরোপুরি বাতিল করলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বিষয়টি জটিল আকার ধারণ করেছে এবং পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে নিজের কাজের প্রতি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, দেড় বছরের এই সংক্ষিপ্ত মেয়াদে যতটুকু সম্ভব কাজ করার চেষ্টা করা হয়েছে। কাজ করতে গিয়ে কোনো বিচ্যুতি হয়েছে কিনা তা যাচাইয়ের জন্য তিনি প্রস্তুত। 

তিনি সজোরে উল্লেখ করেন, দায়িত্ব ছাড়ার পর জবাবদিহিতা দিতে বা কাঠগড়ায় দাঁড়াতে আমার কোনো সমস্যা নেই, কারণ আমরা জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করেছি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়