শীতের দাপট বাড়ছে, আরও কয়েক দিন শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত
মাঘ মাস শুরুর আগেই দেশজুড়ে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। ঘন কুয়াশা ও হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বর্তমানে দেশের ২৪ জেলার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এমন পরিস্থিতি পুরো জানুয়ারি মাসজুড়েই অব্যাহত থাকতে পারে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানান আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং অন্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা দেখা দিতে পারে। এ সময় রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের কোথাও বৃষ্টি হয়নি। এ সময়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে বান্দরবানে ২৮ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল তেঁতুলিয়ায় ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বর্তমানে নরসিংদী, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলা এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় রয়েছে। এটি ১০ জানুয়ারি উত্তর শ্রীলংকা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। নিম্নচাপটির একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। পাশাপাশি উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থান করছে।
আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহ আরও ২-৩ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। পুরো জানুয়ারি মাসজুড়েই তীব্র শীত অনুভূত হবে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে পারে।
এদিকে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২০ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে বেশি কুয়াশার ঘনত্ব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বায়ুদূষণ বৃদ্ধির ফলে বাতাসে ভাসমান ধূলিকণার সঙ্গে মিশে কুয়াশা আরও ঘন হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদ জেবুন্নেছা জলি বলেন, বায়ুদূষণের কারণে ধূলিকণার সংস্পর্শে এসে কুয়াশার ঘনত্ব বাড়ছে।
আরও পড়ুন: পাবনা-১ ও ২ আসনে নির্বাচন স্থগিত
পরিবেশবিদদের মতে, এল নিনো ও লা নিনোর প্রভাবের কারণে দেশের আবহাওয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তারা সতর্ক করে বলেন, এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকির দিকে এগিয়ে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতে ষড়ঋতুর বৈচিত্র্য হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








