পাতানো নির্বাচনের সুযোগ নেই: সিইসি
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কোনো ধরনের অনিয়ম বা ‘পাতানো’ নির্বাচনের সুযোগ দেবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশন ইনসাফে বিশ্বাসী এবং সবার জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতেই কমিশন কাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় প্রাঙ্গণে মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চলমান আপিল আবেদনের বুথ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন সিইসি।
এ সময় তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আগের মতো কোনো পাতানো নির্বাচন এবার হবে না এবং এ জন্য কাউকে রাজপথে নামারও প্রয়োজন হবে না।
সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কোনো সিদ্ধান্তে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে আইনের আওতায় আপিল করার পূর্ণ সুযোগ রয়েছে। যারা মনোনয়নের বৈধতা বা বাতিলের বিরুদ্ধে আবেদন করছেন, প্রতিটি আবেদন আইনি তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছতায় বিশ্বাসী এবং আইন সবার জন্য সমান—এটি মানতেই সবাই বাধ্য।
আপিল শুনানির পুরো প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ হবে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, শুনানি শেষে আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং সেই সিদ্ধান্ত দৃশ্যমান হবে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় সহিংসতা ও বোমাবাজির ঘটনা ঘটলেও এবার অত্যন্ত শান্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে মনোনয়ন দাখিল সম্পন্ন হয়েছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জন্য একটি ইতিবাচক দিক।
নির্বাচন কমিশন এখন মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে সিইসি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আপিল করতে আসছেন। এতে প্রমাণিত হয়, নির্বাচনের প্রতি জনগণের আগ্রহ রয়েছে, যা কমিশন ইতিবাচকভাবে দেখছে।
আরও পড়ুন: সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক কার্ডে অনলাইন আবেদন বাধ্যতামূলক করল ইসি
ইসি সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার আপিল দায়েরের চতুর্থ দিন চলছে। সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা মনোনয়ন ফিরে পেতে অথবা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বৈধতার বিরুদ্ধে আপিল জমা দিতে নির্বাচন কমিশনে আসছেন। ৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আপিল আবেদন গ্রহণ চলবে আগামীকাল শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
গত তিন দিনে নির্বাচন কমিশনে মোট ২৯৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে সোমবার প্রথম দিনে মনোনয়ন বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে ৪১টি এবং মনোনয়ন গ্রহণের বিরুদ্ধে একটি আপিল করা হয়। মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনে জমা পড়ে ১২২টি আপিল এবং বুধবার জমা হয় ১৩১টি আপিল। বুধবার খুলনা অঞ্চল থেকে ১১টি, রাজশাহী অঞ্চল থেকে ১৫টি, রংপুর অঞ্চল থেকে ৯টি, চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে ১০টি, কুমিল্লা অঞ্চল থেকে ১৯টি, ঢাকা অঞ্চল থেকে ৩১টি, ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে ১৬টি, বরিশাল অঞ্চল থেকে ৯টি এবং ফরিদপুর অঞ্চলের জেলাগুলো থেকে ৭টি আপিল দায়ের করা হয়।
ইসি সূত্র আরও জানায়, গত ৪ জানুয়ারি বাছাইয়ের শেষ দিনে জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনে মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এর মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ১ হাজার ৮৪২টি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন এবং ৭২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন।
নির্বাচন কমিশনের নোটিশ অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার আদেশে সংক্ষুব্ধ কোনো প্রার্থী, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কিংবা সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ৯ জানুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে নির্বাচন কমিশন বরাবর আপিল করতে পারবে। আপিল দাখিলের ক্ষেত্রে মূল কাগজের একটি সেট ও ছয় সেট ফটোকপি মেমোরেন্ডাম আকারে জমা দিতে হচ্ছে।
আপিলগুলোর শুনানি আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে নির্বাচন ভবনের বেজমেন্ট-২-এর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন কমিশন এই শুনানি গ্রহণ করবে। ইসির নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ১০ জানুয়ারি ১ থেকে ৭০ নম্বর আপিল, ১১ জানুয়ারি ৭১ থেকে ১৪০, ১২ জানুয়ারি ১৪১ থেকে ২১০, ১৩ জানুয়ারি ২১১ থেকে ২৮০, ১৪ জানুয়ারি ২৮১ থেকে ৩৫০, ১৫ জানুয়ারি ৩৫১ থেকে ৪২০, ১৬ জানুয়ারি ৪২১ থেকে ৪৯০, ১৭ জানুয়ারি ৪৯১ থেকে ৫৬০ এবং ১৮ জানুয়ারি ৫৬১ নম্বর থেকে অবশিষ্ট আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
শুনানি শেষে প্রতিটি আপিলের ফলাফল মনিটরে প্রদর্শন করা হবে। একই সঙ্গে রায়ের পিডিএফ কপি ও আপিলের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং পক্ষগুলোর ই-মেইল ঠিকানায় পাঠানো হবে। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও তা প্রকাশ করা হবে। এ ছাড়া নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্বাচন ভবনের অভ্যর্থনা ডেস্ক থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে রায়ের অনুলিপি বিতরণ করা হবে।
তফসিল অনুযায়ী, আপিল নিষ্পত্তি শেষে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং তা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








