News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:২৩, ৮ জানুয়ারি ২০২৬

২৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি

২৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি

ফাইল ছবি

সারা দেশে জেঁকে বসেছে শীত। উত্তরের হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে জনপদ। 

বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি) দেশের ২৪টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে এই অঞ্চলের সর্বনিম্ন। গতকাল বুধবারের তুলনায় আজ শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়া এলাকার সংখ্যা কিছু কমেছে, পাশাপাশি সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও সামান্য বেড়েছে। রাজধানীর তাপমাত্রা ও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি অন্তত চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানিয়েছেন, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের সব জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এছাড়া গোপালগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, ফেনী, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়াতেও শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ১৬ জেলা ও উক্ত আট জেলা মিলিয়ে মোট ২৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ রয়েছে। গতকাল দেশের ৪৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ ছিল। নওগাঁর বদলগাছীতে বুধবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল, যা এই শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন ছিল।

শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা অনুযায়ী, যখন কোনো এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮.১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে, তখন তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। ৬.১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ, ৪.১ থেকে ৬ ডিগ্রি হলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ, এবং ৪ ডিগ্রির নিচে হলে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। 

আরও পড়ুন: দেশের ৪৪ জেলায় বইছে শৈত্যপ্রবাহ

শাহীনুল ইসলাম বলেন, এই শৈত্যপ্রবাহ এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে স্থায়ী হতে পারে। এতে নতুন জেলা যুক্ত হতে পারে আবার কিছু জেলা বাদও পড়তে পারে।

দেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ এবং ঘণ্টায় বাতাসের গতিবেগ ছিল ১০–১২ কিলোমিটার। সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি এবং ভোর থেকেই জেলা ঘন কুয়াশায় আবদ্ধ ছিল। তেঁতুলিয়ার ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে জনজীবনে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, যানবাহন চালক, শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, গত কয়েক দিন ধরে তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রার ওঠানামা হয়েছে। উত্তরের হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আগামী কয়েক দিন এই পরিস্থিতি চলতে পারে।

এদিকে দেশের বিভিন্ন নদী অববাহিকায় মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা হতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে, আর দিনের তাপমাত্রা সামান্য বেড়ে যেতে পারে। শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত দেশের আবহাওয়া পূর্বাভাসে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ শুষ্ক থাকতে পারে। বিরাজমান শৈত্যপ্রবাহ কিছু কিছু এলাকায় অব্যাহত থাকবে।

শ্রীমঙ্গলের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান জানান, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আজ সকালেই ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ মৌসুমে এখানকার তাপমাত্রা এ রেকর্ডের নিচে নামেনি। আরও কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঘন কুয়াশা ও হালকা বাতাসের কারণে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ, শিশু ও বয়স্করা শীতজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। চা বাগানের শ্রমিকরা পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। 

শমশেরনগর চা বাগানের নারী শ্রমিক মহিমা রানী ও আদরমনি মৃধা জানিয়েছেন, দৈনিক মাত্র ১৮৭ টাকা মজুরিতে পাঁচ-সাতজনের সংসার চালানো খুব কঠিন। বাজারে জিনিসপত্রের দাম এত বেশি যে শীতবস্ত্র কেনা তাদের জন্য অসম্ভব। এছাড়া চা বাগানগুলোর ডিসপেনসারিতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা নেই, ফলে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে বাড়ছে।

দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বৃহস্পতিবার টেকনাফে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোথাও বৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া যায়নি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়