News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:১৯, ৬ জানুয়ারি ২০২৬
আপডেট: ১৮:১৯, ৬ জানুয়ারি ২০২৬

হাদি হত্যার নেপথ্যে কাউন্সিলর বাপ্পী, অভিযুক্ত ১৭

হাদি হত্যার নেপথ্যে কাউন্সিলর বাপ্পী, অভিযুক্ত ১৭

ছবি: নিউজবাংলাদেশ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও নতুন ধারার রাজনীতির প্রবক্তা শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত সম্পন্ন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। 

দীর্ঘ তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীসহ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সমালোচনামূলক বক্তব্যের জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। 

তিনি জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর সরাসরি নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও মোটিভ তদন্ত কর্মকর্তা জানান, শরিফ ওসমান হাদি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেছিলেন। তিনি বিভিন্ন সভা-সমাবেশ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বিগত দিনের কার্যক্রমের কড়া সমালোচনা করতেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা বাপ্পী তাকে হত্যার নির্দেশ দেন। এছাড়া হাদি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং গণসংযোগ চালাচ্ছিলেন, যা আসামিদের ক্ষোভের অন্যতম কারণ ছিল।

আরও পড়ুন: হাদি হত্যার বিচার দাবিতে শাহবাগ থেকে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ শুরু

অভিযোগপত্র ও আসামিদের অবস্থা আদালতে দাখিলকৃত অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ডিবি প্রধান জানান, অভিযুক্তদের মধ্যে ১২ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা সম্ভব হলেও প্রধান আসামি ফয়সাল, তার বোন জেসমিন, আলমগীর ও ফিলিপসহ ৫ জন এখনো পলাতক রয়েছেন। 

তদন্তে উঠে এসেছে যে, হত্যাকাণ্ডের পর ফয়সাল ও আলমগীরকে পালিয়ে যেতে সার্বিক সহায়তা করেছেন কাউন্সিলর বাপ্পী। 

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, প্রধান আসামিরা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। যদিও ভারতীয় পুলিশ আটকের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি, তবে ডিবির কাছে তাদের সেখানে গ্রেফতারের তথ্য রয়েছে।

ঘটনার বিবরণ ও ফরেনসিক রিপোর্ট গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা হাদিকে লক্ষ্য করে মোটরসাইকেল আরোহী সন্ত্রাসীরা মাথায় গুলি করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলে ১৮ ডিসেম্বর সেখানে তার মৃত্যু হয়।

ডিবি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং ব্যালিস্টিক পরীক্ষায় এটি ওই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। 

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধান আসামি ফয়সালের ভিডিও বার্তার বিষয়ে তিনি বলেন, ভিডিওটি এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) দিয়ে তৈরি নয়, এটি আসল। তবে ফয়সাল দুবাইতে থাকার যে দাবি করছেন তা সঠিক নয়; তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।

আইনি কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপ তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় এই চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। তবে পলাতক আসামিদের গ্রেফতার এবং অধিকতর তদন্তে যদি আরও কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তবে নিয়মানুযায়ী আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হবে। এর আগে ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলাটি হাদির মৃত্যুর পর হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়