News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:১৬, ৪ জানুয়ারি ২০২৬

গুম ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তদন্ত প্রতিবেদন জমা

গুম ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তদন্ত প্রতিবেদন জমা

ছবি: সংগৃহীত

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে গুম সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারি।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, রবিবার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কমিশনের পক্ষ থেকে প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হয়।

এ সময় কমিশনের সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, সদস্য বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী, নূর খান লিটন, নাবিলা ইদ্রিস ও সাজ্জাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্যসচিব সিরাজউদ্দিন মিয়াও উপস্থিত ছিলেন।

কমিশন জানায়, মোট ১ হাজার ৯১৩টি গুমের অভিযোগ পাওয়া যায়। যাচাই-বাছাই শেষে এর মধ্যে ১ হাজার ৫৬৯টি অভিযোগ গুম হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে ২৮৭টি মামলা ‘মিসিং অ্যান্ড ডেড’ ক্যাটাগরিতে পড়েছে।

কমিশনের সদস্য নাবিলা ইদ্রিস বলেন, প্রকৃত গুমের সংখ্যা চার থেকে ছয় হাজার হতে পারে। অনেক ভুক্তভোগী এখনো কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বা অনরেকর্ড কথা বলতে রাজি হননি।

কমিশনের তদন্তে বলা হয়, বলপূর্বক গুমের পেছনে মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এটি একটি ‘পলিটিক্যালি মোটিভেটেড ক্রাইম’।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুম থেকে জীবিত ফিরে আসা ভুক্তভোগীদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ জামায়াত-শিবির এবং ২২ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। এখনো নিখোঁজদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের এবং ২২ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী।

হাই প্রোফাইল গুমের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। উল্লেখযোগ্য ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, চৌধুরী আলম এবং জামায়াত নেতা আবদুল্লাহিল আমান আযমী, ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম ও সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান।

কমিশনের মতে, অনেক গুমের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী সরাসরি নির্দেশদাতা ছিলেন। এছাড়া ভুক্তভোগীদের ভারতসহ অন্য দেশে বেআইনি রেন্ডিশনের তথ্যও পাওয়া গেছে, যা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস কমিশনের সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবলের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক প্রতিবেদন, যা রাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে।

আরও পড়ুন: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা-পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপ

তিনি রিপোর্টটি সহজ ভাষায় জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণের নির্দেশ দেন। এছাড়া আয়নাঘরের পাশাপাশি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের স্থানগুলো ম্যাপিং করার নির্দেশনা দেন।

কমিশন জানায়, তদন্তে বরিশালের বলেশ্বর নদীতে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া বুড়িগঙ্গা নদী ও মুন্সিগঞ্জ এলাকাতেও লাশ গুমের তথ্য মিলেছে।

কমিশনের সদস্যরা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠন এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়