News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:৪৮, ১ জানুয়ারি ২০২৬

সাধারণের জন্য উন্মুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধি

সাধারণের জন্য উন্মুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধি

ছবি: সংগৃহীত

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার পর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যান এলাকায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হয়। এর আগে সংস্কার কাজের জন্য উদ্যানের ভেতরে প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল।

সকাল থেকেই ‘গণতন্ত্রের অপসহীন নেত্রী’ বেগম খালেদা জিয়ার কবর একনজর দেখতে এবং শ্রদ্ধা জানাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা বয়সী মানুষ শেরেবাংলা নগরে জড়ো হতে থাকেন। উদ্যান বন্ধ থাকায় শুরুতে বিজয় সরণি মোড়সহ বিভিন্ন প্রবেশমুখে ব্যারিকেডে দাঁড়িয়ে মানুষ অপেক্ষা করেন। অনেকে সমাধিস্থলে ঢুকতে না পেরে সড়কেই দাঁড়িয়ে হাত তুলে মোনাজাত করেন।

দুপুরে ফটক খুলে দেওয়ার পর শুরু হয় মানুষের ঢল। সমাধিস্থলে ফুলের তোড়া দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি অসংখ্য মানুষকে কোরআন পাঠ এবং মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় অশ্রুসিক্ত চোখে দোয়া করতে দেখা যায়। বর্তমানে পুরো উদ্যান এলাকায় পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তা নিশ্চিতে দায়িত্ব পালন করছেন।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শহীদ স্বামীর পাশে সমাহিত খালেদা জিয়া

উল্লেখ্য, গত বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টার পরপরই রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও বায়তুল মোকাররমের খতিব আবদুল মালেকের ইমামতিতে জাতীয় ঈদগাহ সংলগ্ন এলাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজা শেষে বিকেল পৌনে ৫টায় পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।

দাফনকালে সুদূর লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কবরে প্রতীকী মাটি ছিটিয়ে দেন তার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এরপর একে একে পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান ও শামিলা রহমান সিতু, নাতনি জাইমা রহমান এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর দুই মেয়ে জাহিয়া ও জাফিয়া রহমান কবরে মাটি দেন।

গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বেগম খালেদা জিয়া। গত ২৩ নভেম্বর ফুসফুসের সংক্রমণ ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তার নিউমোনিয়া, লিভার, কিডনি, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা চরম আকার ধারণ করে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয় এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সমাধিস্থল উন্মুক্ত হওয়ার পর সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তাঁর জনপ্রিয়তারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়