জাপানের পর ফিলিপাইনে ৬.৮ মাত্রার ভূমিকম্প
ফাইল ছবি
ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ মিন্দানাওয়ের উপকূলবর্তী এলাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে আঘাত হানা এই ভূকম্পনটি জনমনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
ভূমিকম্পের মাত্রা নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্যে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও এটি ৬ দশমিক ৪ থেকে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী কম্পন হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় এবং এর গভীরতা নিয়েও বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে ভিন্নতা পাওয়া গেছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এবং জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (জিএফজেড)-এর তথ্যমতে, ভূমিকম্পের মাত্রা ৬ দশমিক ৪ থেকে ৬ দশমিক ৮-এর মধ্যে ছিল এবং এর গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ থেকে ৬৫ দশমিক ৭ কিলোমিটারের মধ্যে।
ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজি (ফিভোলকস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উপকেন্দ্র ছিল দাভাও অক্সিডেন্টাল প্রদেশের সারাঙ্গানি পৌরসভার বালুত দ্বীপের অদূরে। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘস্থায়ী এবং প্রবল কম্পন অনুভব করার কথা জানিয়েছেন। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে শক্তিশালী এই ভূকম্পনের পর আফটারশকের বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
একই অঞ্চলে অতীতেও একাধিকবার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। চলতি বছরের শুরুতেই কোটাবাটো ট্রেঞ্চের স্থানচ্যুতির ফলে সৃষ্ট ভূকম্পনে স্থানীয় উপকূলরেখায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছিল, যেখানে প্রায় ২ মিটার এলাকা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উপরে উঠে গিয়ে নতুন স্থলভাগের সৃষ্টি হয়েছিল।
আরও পড়ুন: ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮৯
চলতি সপ্তাহে বিশ্বজুড়ে ভূমিকম্পের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফিলিপাইনের এই ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে জাপানের চিবা প্রদেশে ৫ দশমিক ৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর ফলে রাজধানী টোকিওসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা কেঁপে উঠলেও কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। জাপানি কর্তৃপক্ষ এবং ইউএসজিএস নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
এদিকে, লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয় পুরো বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে। গত বুধবার দেশটিতে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। গত এক শতাব্দীর মধ্যে ভেনেজুয়েলায় ঘটা সবচেয়ে ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাজধানী কারাকাসসহ উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮৯ জনে এবং প্রায় ৩ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়াদের উদ্ধারে জীবনবাজি রেখে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন ৭০ হাজারের বেশি মানুষ। বর্তমানে উদ্ধারকাজের জন্য সবচেয়ে অনুকূল সময় বা গোল্ডেন উইন্ডো পার হওয়ায় ধ্বংসস্তূপের নিচে বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার প্রচেষ্টাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








