চীন সফর শেষে ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি: সংগৃহীত
মালয়েশিয়া ও চীনের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সম্পন্ন করা ছয় দিনের সরকারি সফর শেষে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (২৬ জুন) চীনের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১৬ মিনিটে বেইজিং ড্যাক্সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে তিনি ও তার সফরসঙ্গীরা ঢাকার পথে যাত্রা করেন। বিমানটি আজ রাত ৮টায় ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে।
সফরের শেষ দিন শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। এর আগে সকালে তিনি তিয়েনআনমেন স্কয়ারে অবস্থিত স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে চীনের বিপ্লবী বীরদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
বেইজিং সফরকালে প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গেও আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। গত বৃহস্পতিবার গ্রেট হলে তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা প্রদানের মাধ্যমে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে প্রাণহানিতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং কমিউনিস্ট পার্টির উচ্চপদস্থ নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন। ইনভেস্ট বাংলাদেশ শীর্ষক বিনিয়োগ সম্মেলনে তিনি বাংলাদেশের বিশাল বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ আন্তর্জাতিক মহলের সামনে তুলে ধরেন। বেইজিংয়ে অবস্থানকালে তারেক রহমান চীনের পানি সম্পদমন্ত্রী লি গোয়োইং এবং দেশটির শীর্ষস্থানীয় অটোমোবাইল ও টেক্সটাইল খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন। এছাড়াও, বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) মধ্যে রাজনৈতিক যোগাযোগের নতুন পথ উন্মোচনে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুন মালয়েশিয়া সফরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই প্রথম সরকারি বিদেশ সফর শুরু হয়। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দুদিনের সফল সফর শেষে তিনি চীনের দালিয়ান শহরে যান। সেখানে তিনি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সামার দাভোস ২০২৬-এ অংশগ্রহণ করেন এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। দালিয়ানে দুই দিন কর্মব্যস্ত কর্মসূচি শেষে তিনি গত বুধবার বিকেলে বেইজিংয়ে পৌঁছান।
চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর। এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীন অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য, কৃষি, প্রযুক্তি এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছে, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান চীনা প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত ইউ শিয়াওয়ং। আজ রাতে ঢাকায় পৌঁছালে দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং সরকারের প্রতিনিধিরা তাকে স্বাগত জানাবেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








