নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:০৫, ২৬ জুন ২০২৬

হামে ২৪ ঘণ্টায় ৪ শিশুর মৃত্যু, মোট  প্রাণহানি ৭০২

হামে ২৪ ঘণ্টায় ৪ শিশুর মৃত্যু, মোট  প্রাণহানি ৭০২

ফাইল ছবি

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। 

শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের প্রকাশিত হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারো মৃত্যু না হলেও সন্দেহজনক হামের উপসর্গে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে মোট ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। 

এর মধ্য দিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মৃতের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০২ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, এই মোট মৃত্যুর মধ্যে ৯৩টি নিশ্চিত হামের ঘটনার বিপরীতে ৬০৯টি মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গের কারণে।

হামের সংক্রমণ ও উপসর্গ শনাক্তের হার উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১০৭ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং ৮৬৯ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এই নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শুক্রবার পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৯৭ হাজার ৫২২ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়ার তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি একই সময়ে মোট ১১ হাজার ৫৪৯ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় হাসপাতালে ভর্তির হারও বেশ উল্লেখযোগ্য। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৮১ হাজার ২৮৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সন্তোষজনক বিষয় হলো, এ পর্যন্ত ৭৭ হাজার ৬১৩ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

আরও পড়ুন: হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ জনের মৃত্যু

বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, রাজধানী ঢাকায় হামের প্রকোপ ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। এখন পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ২৬৩ জন মারা গেছেন। এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৮৮ জন, সিলেটে ৭৭ জন, ময়মনসিংহে ৫৬ জন, চট্টগ্রামে ৫১ জন, বরিশালে ৩৯ জন, খুলনায় ২৭ জন এবং রংপুর বিভাগে ৮ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম বিশ্বের অন্যতম সংক্রামক রোগ এবং এটি নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচিই সবচেয়ে কার্যকর ও শক্তিশালী অস্ত্র। সরকারের পক্ষ থেকে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা এবং বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করার পরও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় সংক্রমণ ও মৃত্যু না কমার বিষয়টি গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জটিল পরিস্থিতির পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ বিদ্যমান রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো টিকাদান কভারেজের ঘাটতি, টিকা গ্রহণের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের মধ্যে থাকা দ্বিধা ও সচেতনতার অভাব, মাঠপর্যায়ে নজরদারির দুর্বলতা এবং মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার পরিবর্তন সংক্রান্ত নতুন চ্যালেঞ্জ। 

এছাড়া, যেসব শিশু টিকার পূর্ণ ডোজ গ্রহণ করেছে, তাদের শরীরেও প্রত্যাশিত মাত্রায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে গবেষণার প্রয়োজনীয়তা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেবল টিকাদান নয়, বরং নিবিড় নজরদারি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়