জেলা সংবাদদাতা || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১১:৪০, ২৪ জুন ২০২৬
আপডেট: ১১:৪১, ২৪ জুন ২০২৬

তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম, খুলে দেওয়া হয়েছে সব জলকপাট

তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম, খুলে দেওয়া হয়েছে সব জলকপাট

ছবি: সংগৃহীত

উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিপাতে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেল ৩টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি ৫২ দশমিক ১৬ সেন্টিমিটার রেকর্ড করা হয়, যা বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপরে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ জুন থেকে তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছিল। উজানে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পানির চাপ বাড়ায় ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে পানি ভাটির দিকে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই, পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, গয়াবাড়ী, খালিশা চাপানি ও ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের মানুষ বন্যা শঙ্কায় রয়েছেন। পানি আরও বাড়লে বসতবাড়ি, গ্রামীণ সড়ক ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

খালিশা চাপানি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুজ্জামান বলেন, উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে তিস্তার পানি দ্রুত বাড়ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে মাঠে উল্লেখযোগ্য কোনো ফসল না থাকায় বড় ধরনের কৃষি ক্ষতির আশঙ্কা কম থাকলেও নদী তীরবর্তী এলাকার পুকুর, সবজি, গবাদিপশু ও বসতভিটা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় সামান্য পানি বৃদ্ধিতেই তিস্তা দ্রুত ফুলে ওঠে। নিয়মিত নদী খনন ও ড্রেজিং করা হলে বন্যার ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে তারা মনে করেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় তিস্তার পানি আরও বাড়তে পারে এবং নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমাত্রার বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

আরও পড়ুন: নাভানা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদুল গ্রেফতার

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে পানি বাড়ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হয়েছে।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে। নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের প্রয়োজনে নিরাপদ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে পানি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়