যুদ্ধবিরতির মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস বুশ’
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে চলমান নাজুক যুদ্ধবিরতির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় নিজেদের সামরিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এই অঞ্চলে নতুন করে মোতায়েন করা হচ্ছে পরমাণু শক্তিচালিত বিশালাকার বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশ’।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এবং পেন্টাগন সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় সেন্টকম জানায়, ইউএসএস জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশ বর্তমানে ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছে। গত মার্চ মাসে ভার্জিনিয়া থেকে যাত্রা শুরু করে আফ্রিকার উপকূল পাড়ি দিয়ে এটি লক্ষ্যস্থলের দিকে এগিয়ে আসছে। নতুন এই রণতরীটি যুক্ত হওয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে তিনে। এর আগে থেকেই এই অঞ্চলে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ এবং ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’ অবস্থান করছিল।
পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বের বৃহত্তম রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’-এ সম্প্রতি কারিগরি গোলযোগ দেখা দেয়। বিশেষ করে জাহাজটির লন্ড্রি এরিয়ায় অগ্নিকাণ্ড এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা বিকল হয়ে যাওয়ায় গত মার্চের শেষ সপ্তাহে সেটিকে মেরামতের জন্য লোহিত সাগর ও সুয়েজ খাল দিয়ে ক্রোয়েশিয়ার পথে পাঠানো হয়। মজার ব্যাপার হলো, যেদিন ইউএসএস ফোর্ড মেরামতের উদ্দেশ্যে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ে, ঠিক সেই দিনই ভার্জিনিয়া থেকে বিকল্প হিসেবে ইউএসএস বুশ যাত্রা শুরু করেছিল।
আরও পড়ুন: মার্কিন বাধা উপেক্ষা করে বন্দরে পৌঁছাল ইরানি জাহাজ
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চরম উত্তেজনা এবং পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। টানা ৪০ দিনের বিধ্বংসী যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে তেহরান ও ওয়াশিংটন। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য’ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি চললেও মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করার সিদ্ধান্তটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
এর মাধ্যমে ওয়াশিংটন তেহরানকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে যে, কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ থাকলেও সামরিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ হলে বা নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুততম সময়ে পাল্টাহামলা চালাতে সক্ষম এই রণতরী মোতায়েন সেই সক্ষমতারই জানান দিচ্ছে।
মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম প্রধান এই সম্পদ ইউএসএস বুশ একটি পরমাণু শক্তিচালিত দানবীয় যুদ্ধজাহাজ। আমেরিকার হাতে থাকা এমন ১০টি বিশেষ রণতরীর মধ্যে এটি অন্যতম, যা শত শত যুদ্ধবিমান ও কয়েক হাজার সেনা বহনে সক্ষম। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এই রণতরীর আগমন ওই অঞ্চলের ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








