News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:৪৯, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

মার্কিন আধিপত্যের দিন শেষ: ইরান

মার্কিন আধিপত্যের দিন শেষ: ইরান

ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালায়ি-নিক। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের স্বাধীন দেশগুলোর ওপর নিজেদের নীতি চাপিয়ে দেওয়া কিংবা হুকুম চালানোর ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র হারিয়েছে বলে কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান। তেহরান দাবি করেছে, ওয়াশিংটনকে এখন তাদের 'অবৈধ ও অযৌক্তিক' দাবিগুলো পরিত্যাগ করে বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে। 

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালায়ি-নিক দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে এই মন্তব্য করেন। 

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা সংক্রান্ত ইরানের একটি নতুন প্রস্তাব যখন ওয়াশিংটন পর্যালোচনা করছে, ঠিক সেই মুহূর্তে তেহরানের পক্ষ থেকে এমন কড়া হুঁশিয়ারি এলো।

রেজা তালায়ি-নিক তার বক্তব্যে বিশ্ব রাজনীতিতে মার্কিন একক আধিপত্যের অবসান ঘটছে বলে ইঙ্গিত দেন। তিনি জানান, ইরান এখন বিশ্বের অন্যান্য স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে, বিশেষ করে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে নিজেদের উন্নত প্রতিরক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা ভাগাভাগি করতে পুরোপুরি প্রস্তুত। 

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির শাসনামলে ইরান এখন আঞ্চলিক জোটগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার যে নীতি গ্রহণ করেছে, তা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রভাবের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

চলমান সংঘাতের শুরু থেকেই ইরান কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় তেলের দাম দফায় দফায় বৃদ্ধি পেয়েছে। 

আরও পড়ুন: ইরানের নতুন প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নন ট্রাম্প

তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে প্রতিদিন এই প্রণালি দিয়ে ১২৫ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করলেও বর্তমানে তা হাতেগোনা কয়েকটিতে নেমে এসেছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের মুখে অন্তত ছয়টি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার ফিরে যেতে বাধ্য হওয়ায় তেহরান একে ‘সমুদ্রপথে দস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। বর্তমানে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চললেও স্থায়ী সমাধানের আলোচনায় এই প্রণালিটিই এখন মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে দুই মাসব্যাপী চলা এই যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ইরানের দেওয়া নতুন প্রস্তাবটি বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন খতিয়ে দেখছে। 

তবে হোয়াইট হাউস সূত্র জানিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাবে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। ইরানের পক্ষ থেকে শর্ত দেওয়া হয়েছে যে, যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা করা যাবে না এবং আগে উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করতে হবে। 

অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের অনড় অবস্থান হলো যেকোনো আলোচনার শুরুতেই পারমাণবিক ইস্যু থাকতে হবে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস জানিয়েছেন, তারা গণমাধ্যমের মাধ্যমে কূটনৈতিক আলোচনা করতে আগ্রহী নন, তবে ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত এই যুদ্ধের অবসান চায়।

কূটনৈতিক এই অচলাবস্থার মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাশিয়া, পাকিস্তান ও ওমান সফর করে আঞ্চলিক সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়েছেন। বিশেষ করে মস্কো সফরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার বৈঠক তেহরানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরান যে শর্ত দিয়েছে, তা মেনে নেওয়া বা না নেওয়ার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের ভবিষ্যৎ।

সূত্র: এএফপি, টাইমস অব ইসরায়েল

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়