News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:৫৩, ২ মার্চ ২০২৬

চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন খামেনির স্ত্রী

চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন খামেনির স্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলার ধারাবাহিকতায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পর এবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তার স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাগেরজাদেহ। 

সোমবার (০২ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা ও আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা ও আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্সও এই খবরটি গুরুত্বের সাথে প্রচার করেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়। ওই হামলাতেই নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। একই হামলায় গুরুতর আহত হন তার স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাগেরজাদেহ। হামলার পর থেকে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন। 

তাসনিমের বরাতে জানা যায়, ৭৯ বছর বয়সী বাগেরজাদেহ কোমায় ছিলেন এবং দুই দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এর আগে একই হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাতা, নাতি ও পুত্রবধূ নিহত হওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়। পরিবারটির ওপর এই সরাসরি আঘাত ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

আরও পড়ুন: ইরানে আগ্রাসন সার্বভৌমত্ব ও জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘন: চীন

মানসুরেহ খোজাস্তেহ বাগেরজাদেহ ১৯৪৭ সালে একটি সম্মানিত বণিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মোহাম্মদ ইসমাইল খোজাস্তেহ বাগেরজাদেহ একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৬৪ সালে আয়াতুল্লাহ খামেনির সঙ্গে তার বিয়ে হয় (কিছু সূত্রে ১৯৬৫ সাল উল্লেখ রয়েছে)। দাম্পত্য জীবনে তাদের চার ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। কয়েক দশকের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তিনি স্বামীকে নীরবে সমর্থন করে গেছেন বলে জানা যায়। জনসমক্ষে খুব কমই দেখা যেত তাকে; কোনো রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব বা আনুষ্ঠানিক পদ তিনি গ্রহণ করেননি এবং ক্যামেরা ও জনজীবন থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন।

খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরান প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র জানিয়েছে। 

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে হামলা অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেহরান প্রশাসন জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে, যদিও পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

টানা কয়েক দিনের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ফলে তেহরানসহ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে ব্যাপক জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। 

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পর তার স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন ও আরও অস্থির অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়