News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১১:২২, ১ মার্চ ২০২৬

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারে আহত ৮

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারে আহত ৮

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে এবার কাতারের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানি ভূখণ্ডে হামলার প্রতিক্রিয়ায় তেহরান এই পাল্টা আঘাত হানে। কাতারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও আকাশ থেকে পড়া ধ্বংসাবশেষের আঘাতে অন্তত ৮ জন কাতারি নাগরিক আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান ব্রিগেডিয়ার আবদুল্লাহ খলিফা আল-মুফতাহ এক টেলিভিশন ভাষণে জানান, ইরান থেকে অন্তত ৬৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কাতারের লক্ষ্যবস্তু অভিমুখে ছোড়া হয়েছিল। কাতারের প্রতিরক্ষা বাহিনী অত্যন্ত ক্ষিপ্রতার সঙ্গে এই আক্রমণ রুখে দিলেও ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আছড়ে পড়ে। পুরো দেশজুড়ে ধ্বংসাবশেষ পতনের অন্তত ১১৪টি প্রতিবেদন নথিবদ্ধ করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দ্বিতীয় দফায় চালানো আক্রমণটিও তারা সফলভাবে নস্যাৎ করে দিয়েছেন। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কাতারের মূল ভূখণ্ডের গভীরে পৌঁছানোর আগেই আকাশসীমায় ধ্বংস করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং নাগরিকদের সামরিক স্থাপনা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: খামেনির মৃত্যুতে তেহরানের রাজপথে মানুষের ঢল

এই হামলাকে কাতারের সার্বভৌমত্বের ওপর "স্পষ্ট লঙ্ঘন" হিসেবে অভিহিত করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক কড়া বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপকে "বেপরোয়া ও দায়িত্বজ্ঞানহীন" বলে আখ্যা দিয়ে জানায়, এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ প্রধান ইব্রাহিম সুলতান আল-হাশেমি বলেন, "ইরানের এই আচরণ প্রতিবেশীসুলভ সদ্ভাবের পরিপন্থী। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কাতার এই হামলার যথাযথ জবাব দেওয়ার অধিকার রাখে।" তবে একই সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনে অবিলম্বে সব পক্ষকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে দোহা।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে, এই সংঘাতের আঁচ কেবল কাতারেই সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আক্রমণের পর ইরান একযোগে কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। জর্ডানও তাদের আকাশসীমায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করেছে।

উল্লেখ্য, কাতারের ওপর এটিই প্রথম ইরানি হামলা নয়। এর আগে ২০২৫ সালের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধ চলাকালীন দোহার কাছে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি 'আল ইউডেইদ এয়ার বেইস' লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল তেহরান। বর্তমান হামলাটি সেই ধারাবাহিকতায় উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন প্রভাব কমানোর একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

বর্তমানে কাতারজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কর্তৃপক্ষ জনগণকে শান্ত থাকার পাশাপাশি কোনো ধরনের অপরিচিত বা সন্দেহজনক বস্তু স্পর্শ না করে দ্রুত নিরাপত্তা বাহিনীকে জানানোর কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়