News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:০১, ২৯ জুন ২০২৫

১২ দিনের যুদ্ধবিরতিতে নতুন সংঘাতের শঙ্কা

১২ দিনের যুদ্ধবিরতিতে নতুন সংঘাতের শঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২৪ জুন থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। 

তবে এই যুদ্ধবিরতি শুধু একটি সাময়িক বিরতি, নতুন সংঘাতের আশঙ্কা ব্যাপকভাবে উঁকি দিচ্ছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম মারিভ।

মারিভের রাজনৈতিক সংবাদদাতা আনা ব্রাস্কি বলেন, এখন প্রশ্ন আর যুদ্ধ হবে কি না, নয়। প্রশ্ন হলো কবে এবং কোন ফ্রন্টে পরবর্তী রাউন্ড শুরু হবে। 

তিনি বলেন, সংঘর্ষে জড়িত পক্ষগুলো অপরিবর্তিত এবং সংঘাত শেষ হয়েছে এমন ভাবার কোনো সুযোগ নেই।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র দেড় দিন পরই ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান ডেভিড বার্নিয়া এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা ইরানের সব প্রকল্পের ওপর নজরদারি অব্যাহত রাখব। আমরা জানি তারা কী করছে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করব। এই বক্তব্য যুদ্ধবিরতি অস্থায়ী হওয়ার প্রমাণ দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এই যুদ্ধবিরতি কোনও কৌশলগত সমাধানের ফল নয়। বরং এটি উভয় পক্ষের স্বার্থের একটি সাময়িক ভারসাম্য। ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করে কৌশলগত সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করেছিল। 

অপরদিকে, ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে না জড়িয়ে সংঘাত সীমিত রাখতে চেয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘বাপের কাছে ছুটে যাওয়া ছাড়া উপায় ছিল না’ ইসরায়েলকে ইরান

মার্কিন-মধ্যস্থতাকৃত এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে কোনো তদারকি ব্যবস্থা বা স্থায়ী যোগাযোগ চ্যানেল নেই। ইরানকে তার পারমাণবিক বা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করার কোনো স্পষ্ট অঙ্গীকারে বাধ্য করা হয়নি।

আনা ব্রাস্কি সতর্ক করেছেন, এই অস্থিতিশীল অবস্থা যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে। লেবানন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র, ইয়েমেন থেকে ড্রোন হামলা কিংবা সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় সংঘাত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইসরায়েলি নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, ভবিষ্যতে সংঘাত একাধিক ফ্রন্টে ছোট ছোট কিন্তু ধ্বংসাত্মক আকারে ফিরে আসতে পারে। এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চলমান উত্তেজনা ও অবিশ্বাস আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দূর ভবিষ্যতে কমবে না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে বলা হয়েছে, তিনি একদিকে হামলার সমাপ্তি ঘোষণা করছেন, অন্যদিকে আবার নতুন হামলার হুমকি দিচ্ছেন। ট্রাম্প সাম্প্রতিক উত্তেজনাকে ‘১২ দিনের যুদ্ধ’ নামে একটি টেলিভিশন সিরিজের পর্বের মতো উপস্থাপন করেছেন।

যুদ্ধবিরতির পরও গোলাগুলি অব্যাহত থাকার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠছে, এই বিরতি কি প্রকৃত শান্তির ইঙ্গিত নাকি নতুন সংঘাতের আগে সাময়িক বিরতি মাত্র।

হোয়াইট হাউস থেকে যুদ্ধবিরতি নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এসেছে। একদিকে বলা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে, অন্যদিকে গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, ক্ষতির পরিমাণ ছিল সাময়িক মাত্র।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি ওয়াশিংটন সক্রিয় ভূমিকা না নেয় এবং সংঘাত নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত যে কোনো সময় পুনরায় শুরু হতে পারে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়