হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১০৫
ছবি: সংগৃহীত
দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে এই রোগে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে একজনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে এবং বাকি আটজন এই রোগের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। এ নিয়ে গত এক মাসে (১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত) দেশে হামে নিশ্চিতভাবে ৩১ জন এবং উপসর্গ নিয়ে ১৬৪ জন শিশুর মৃত্যু হলো।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৯ শিশুর মধ্যে সর্বোচ্চ ৬ জনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ১ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, সংক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে ঢাকা। গত এক দিনে সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ১০৫ জন শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে প্রায় ৪৪ শতাংশ বা ৪৮৫ জনই ঢাকার। বর্তমানে সারা দেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ১৭৬ জন রোগীর মধ্যে ১৫৭ জনই ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আরও পড়ুন: ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার হিসাবে, হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৬৯৮ জন শিশু। এর মধ্যে ২৯০ জনই রাজধানীর বাসিন্দা। তবে এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যেও আশার আলো দেখাচ্ছে সুস্থতার হার। একই সময়ে সারা দেশ থেকে ৯৩৫টি শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগে সুস্থতার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া খুলনা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর, সিলেট ও বরিশাল বিভাগ থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি প্রাদুর্ভাবে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১৮ হাজার ১২৯ জন শিশুর মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা দিয়েছে (অন্য একটি সূত্রমতে ১৮ হাজার ২৩১ জন)। এদের মধ্যে ১১ হাজার ৬৫২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৯৭ জনের শরীরে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত মোট ৯ হাজার ৩০৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এর আগে গত রবিবার সকাল থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল।
বিদ্যমান এই পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে ঢাকা বিভাগে সংক্রমণের হার ও মৃত্যুঝুঁকি বেশি থাকায় অভিভাবকদের অতিরিক্ত সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের জ্বর ও শরীরে লালচে দানার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে। প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন তারা।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








