নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৪:৪৫, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

‘জুলাই থেকে বিনামূল্যে স্কুলড্রেস ব্যাগ জুতা পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা’

‘জুলাই থেকে বিনামূল্যে স্কুলড্রেস ব্যাগ জুতা পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা’

ফাইল ছবি

দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। এখন থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে পাঠ্যবই ও মিড-ডে মিলের পাশাপাশি ড্রেস, জুতা এবং পাটের তৈরি স্কুল ব্যাগও পাবে। আগামী জুলাই মাস থেকে পরীক্ষামূলক বা 'পাইলট প্রকল্প' হিসেবে এই মহতী কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। 

প্রথম ধাপে দেশের আটটি বিভাগের ২৫টি উপজেলা বা থানার মোট ৩ হাজার ৫২২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী এই সুবিধার আওতায় আসবে। প্রাথমিকভাবে কর্মসূচিটি শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং পর্যায়ক্রমে এর পরিধি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। সভায় ব্যবসায়ী নেতাদের উপস্থিতিতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ প্রচেষ্টায় এই বিশাল উদ্যোগ বাস্তবায়নের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রতিটি উপজেলা থেকে দুটি করে স্কুল এই পাইলট প্রকল্পের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, প্রথম পর্যায়ে শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দিয়ে শুরু হলেও ক্রমান্বয়ে ইবতেদায়ী মাদরাসা এবং পরবর্তীতে মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই সামগ্রী বিতরণ করা হবে। প্রতিটি শিক্ষার্থী এক শ্রেণিতে এক সেট করে পোশাক, জুতা ও ব্যাগ পাবে। বিজিএমইএ ইতোমধ্যেই প্রথম এক লাখ শিক্ষার্থীর প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোও এই বিশাল কর্মযজ্ঞে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

আরও পড়ুন: জুলাই থেকে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য পাটের ব্যাগ ও ইউনিফর্ম

শিক্ষার্থীদের পোশাকের ধরন ও সমতা বজায় রাখার বিষয়ে সরকার বিশেষ নজর দিচ্ছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সভায় জানান, সারা দেশের সকল ছেলে শিক্ষার্থীর জন্য এক রঙের পোশাক এবং মেয়েদের জন্য অন্য একটি নির্দিষ্ট রঙের পোশাক নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে ব্যাগ ও জুতার ডিজাইনও অভিন্ন থাকবে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য দূর করে শৃঙ্খলা ও সাম্যের বার্তা ছড়িয়ে দেবে। 

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই কর্মসূচিটি কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটির (সিএসআর) আওতায় পরিচালিত হবে এবং আগামী অর্থবছর থেকে এটি আরও বড় পরিসরে দেশের প্রতিটি উপজেলার প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এতে করে দেশের প্রান্তিক ও অসহায় পরিবারের শিশুদের শিক্ষা গ্রহণে আর্থিক আর কোনো বাধা থাকবে না।

উক্ত সভায় শিক্ষার এই মহৎ উদ্যোগে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীগুলোও তাদের পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়েছে। বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলব্যাগ ও জুতা সরবরাহের পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্কুলে যাতায়াতের জন্য বৈদ্যুতিক বাস সরবরাহের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করেন। এছাড়া যমুনা শিল্প গ্রুপসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা এই সরকারি উদ্যোগে সক্রিয় অংশীদার হওয়ার অঙ্গীকার করেন। মূলত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এই বিশাল প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে, যেখানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কারিগরি ও সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করবে।

শিক্ষা ব্যবস্থার এই আধুনিকায়ন ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বই, খাবার ও পোশাক সবকিছুই এখন রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে। এটি কেবল একটি সামাজিক কর্মসূচি নয়, বরং আমাদের সংবিধান প্রদত্ত শিক্ষার অধিকার বাস্তবায়নের একটি শক্তিশালী মাইলফলক। 
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ঝরে পড়ার হার কমার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে এবং অভিভাবকদের ওপর থেকে শিক্ষা ব্যয়ের বড় একটি বোঝা অপসারিত হবে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং বিজিএমইএ-সহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়