২০২৬ থেকে প্রাথমিকে নতুন ‘মূল্যায়ন পদ্ধতি’
ফাইল ছবি
দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার আনতে যাচ্ছে সরকার। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিখন অগ্রগতি যাচাইয়ে প্রচলিত ‘ধারাবাহিক মূল্যায়ন’-এর পাশাপাশি পুনরায় প্রথাগত লিখিত পরীক্ষা বা ‘সামষ্টিক মূল্যায়ন’ পদ্ধতি চালু হতে যাচ্ছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রণীত ‘মূল্যায়ন পদ্ধতি, ২০২৬’-এর চূড়ান্ত খসড়া ইতিমধেই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
আগামী ১৩ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা এবং সচিবের উপস্থিতিতে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় এই নতুন পদ্ধতি চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও অনুমোদন দেওয়া হবে।
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের দাবি এবং বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে নতুন এই সমন্বিত মূল্যায়ন নির্দেশিকা তৈরি করা হয়েছে। এতে লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো প্রতিটি বিষয়ে মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নম্বর বিভাজনের ক্ষেত্রেও আনা হয়েছে বৈচিত্র্য।
প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এর মধ্যে ৫০ নম্বর ধারাবাহিক মূল্যায়নে এবং ৫০ নম্বর সামষ্টিক মূল্যায়নে (লিখিত ও মৌখিক) বরাদ্দ থাকবে। অন্যান্য চারটি বিষয়ে ৫০ নম্বরের মধ্যে ২৫ নম্বর ধারাবাহিক ও ২৫ নম্বর সামষ্টিক মূল্যায়নে রাখা হয়েছে। পাঠ্যপুস্তকপ্রাপ্ত বিষয়গুলোর মোট মূল্যায়ন ১০০ নম্বর এবং যেখানে পাঠ্যপুস্তক নেই, সেগুলোর মূল্যায়ন ৫০ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, বিজ্ঞান ও ধর্ম শিক্ষা বিষয়ে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৩০ নম্বর থাকবে ধারাবাহিক মূল্যায়নে এবং ৭০ নম্বর সামষ্টিক মূল্যায়নে। সামষ্টিকের মধ্যে লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি বাধ্যতামূলক মৌখিক বা ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। শিল্পকলা এবং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা বিষয়ে ৫০ নম্বরের মধ্যে ১৫ নম্বর ধারাবাহিক ও ৩৫ নম্বর সামষ্টিক থাকবে।
আরও পড়ুন: নির্বাচিত সরকার না আসা পর্যন্ত নতুন শিক্ষাক্রম স্থগিত
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হতে হলে একজন শিক্ষার্থীকে গড়ে অন্তত ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই পাসের নম্বর ধরা হয়েছে ৩৩ শতাংশ।
এছাড়া প্রতিটি প্রান্তিকে শিক্ষার্থীদের অন্তত ৮৫ শতাংশ ক্লাসে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী যদি অসুস্থতা বা অনিবার্য কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারে, তবে আবেদনের প্রেক্ষিতে পরবর্তী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে বিকল্প প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অর্জিত ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রথাগত জিপিএ পদ্ধতির পরিবর্তে চারটি ভিন্ন গ্রেড ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে:
১. ‘ক’ গ্রেড: অতি উত্তম
২. ‘খ’ গ্রেড: উত্তম
৩. ‘গ’ গ্রেড: সন্তোষজনক
৪. ‘ঘ’ গ্রেড: সহায়তা প্রয়োজন (০ থেকে ৩৯ নম্বর প্রাপ্তদের জন্য)
এনসিটিবি চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী জানান, শিক্ষার্থীদের শিখন নিশ্চিত করতেই এই সমন্বিত নির্দেশিকা তৈরি করা হয়েছে। প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলেই এটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।
তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান জানিয়েছেন, সামনে জাতীয় নির্বাচন থাকায় এবং নতুন সরকারের ভিন্ন কোনো পরিকল্পনা থাকতে পারে বিধায়, সব দিক গভীরভাবে পর্যালোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আশ্বস্ত করেন যে, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ এবং শিক্ষার মান নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
প্রতি শিক্ষাবর্ষে মোট তিনটি প্রান্তিকে (টার্ম) এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এনসিটিবি গত ২১ ডিসেম্বর এই নির্দেশিকাটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চূড়ান্ত নির্দেশ জারির জন্য মন্ত্রণালয়কে পত্র দিয়ে অনুরোধ জানিয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








