আওয়ামীপন্থি শিক্ষককে টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে নিলেন চাকসু নেতারা
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামীপন্থি এক শিক্ষককে টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে সোপর্দ করেছেন চাকসু নেতারা। এই শিক্ষকের নাম হাসান মোহাম্মদ রোমান। তিনি আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।
শনিবার বেলা ১২টায় আইন অনুষদে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
এদিন আইন অনুষদের গ্যালারিতে পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। খবর পেয়ে চাকসু নেতারা আইন অনুষদের ডিন কার্যালয়ে অবস্থান নেন। এ সময় শিক্ষক রোমান ঘটনাস্থল ত্যাগের চেষ্টা করলে তাকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়।
সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওই শিক্ষককে জাপটে ধরে টেনেহিঁচড়ে রিকশায় তোলা হয়। এরপর রিকশাটি প্রক্টর অফিসের উদ্দেশে যায়।
এ বিষয়ে চাকসুর আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি বলেন, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে ছিলেন, যার মধ্যে আইন অনুষদের ওই সহকারী অধ্যাপক অন্যতম। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সহকারী প্রক্টরের দায়িত্বে থেকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা দিতে ভূমিকা রাখেন। শিক্ষার্থীদের নিজ বাসায় ডেকে নেশা করানো এবং শাহ আমানত হলে গৃহশিক্ষক থাকাকালে হলটিকে আওয়ামী লীগের ও সিএফসির আস্তানায় পরিণত করে।”
আ.লীগের কিছু সন্ত্রাসীর জামিনের দায় বিচারপতিদের: আইন উপদেষ্টা
চাকসুর দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, “আমরা আইন অনুষদে পরিদর্শনের সময় খবর পাই। খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হই। আমাদের উপস্থিতির খবর পেয়ে তিনি আইন অনুষদের গ্যালারির পেছন দিয়ে দৌড়ানোর সময় ব্যাথা পান।”
তবে তাকে কেউ আঘাত করেনি বলে দাবি করেন নোমান।
উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘মব’ তৈরির চেষ্টা করা হয় মন্তব্য করে প্রক্টর অফিসে সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ রোমান বলেন, “পরীক্ষার হলে থাকা অবস্থায় স্টাফ ও শিক্ষকরা আমাকে জানায় পরিস্থিতি ভালো নয়। এরপর আমি হল থেকে বেরিয়ে আসি। তখন চাকসু নেতারা চিৎকার-চেঁচামেচি করলে আমি ভয়ে দৌড় দেই এবং আহত হই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আমি একদিনের জন্যও বের হইনি। কোনো দায়িত্বেও ছিলাম না। মৌন মিছিলেও অংশ নিইনি। আমি শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের বোর্ডের সদস্যও ছিলাম না। সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আমি কাউকে মামলা দেইনি।”
প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, “আমি যতটুকু তথ্য সংগ্রহ করেছি, তার বিরুদ্ধে কোনো মব হয়নি। তিনি পতিত সরকারের একজন সৈনিক হলেও তার ভেতরে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল যে তাকে মবে ফেলা হতে পারে। সে কারণেই তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। তবে আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিরাপত্তা শঙ্কার বিষয়টি জানালে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া যেত, যাতে কোনো শিক্ষকের মানহানি না হয়।”
নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি








