News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:১৪, ৩ মার্চ ২০২৬

রেমিট্যান্সের জোয়ারে ৩৫ বিলিয়ন ছাড়াল রিজার্ভ

রেমিট্যান্সের জোয়ারে ৩৫ বিলিয়ন ছাড়াল রিজার্ভ

ফাইল ছবি

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিকল্পিত পদক্ষেপের ফলে রিজার্ভের পরিমাণ আরও এক ধাপ বেড়েছে। 

বর্তমানে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৩২৮ দশমিক ০৯ মিলিয়ন অর্থাৎ ৩৫ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। 

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আনুষ্ঠানিকভাবে এই হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, একই দিনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৫৮০ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন ডলার বা ৩০ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার। 

উল্লেখ্য, আইএমএফের মানদণ্ড অনুসারে মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিলে যে পরিমাণ অবশিষ্ট থাকে, সেটিই নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ হিসেবে গণ্য হয়।

এর আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে ছিল ৩০ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার। আরও পেছনে গেলে দেখা যায়, ২৩ ফেব্রুয়ারি গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৪ হাজার ৮৬২ দশমিক ০২ মিলিয়ন ডলার বা ৩৪ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার; ওই সময়ে বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ৩০ হাজার ১০৭ দশমিক ৮২ মিলিয়ন ডলার বা ৩০ দশমিক ১০ বিলিয়ন। ১৯ ফেব্রুয়ারি গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩০ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলার।

এ ধারাবাহিকতায় ১৭ ফেব্রুয়ারি রিজার্ভ দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৩৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার (বিপিএম-৬ অনুযায়ী ২৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন)। ১৫ জানুয়ারি গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ হিসাবে ২৮ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলার। ৮ জানুয়ারি গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার, বিপিএম-৬ হিসাবে ২৭ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার। তবে আকুর দায় (১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার) পরিশোধের পর রিজার্ভ সাময়িকভাবে কমে যায়।

আরও পড়ুন: তিন মাসে খেলাপি ঋণ কমলো ৮৭ হাজার কোটি টাকা

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রিজার্ভ বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে প্রবাসী আয়। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের টানা তিন মাস (ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি) প্রবাসীরা তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। ডিসেম্বর মাসে ৩২২ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার এবং ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি ডলার ব্যাংকিং চ্যানেলে এসেছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার ক্রয় করতে সক্ষম হয়েছে, ফলে রিজার্ভের ভান্ডার শক্তিশালী হয়েছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছিল ২০২১ সালের আগস্টে। সে সময় আন্তঃব্যাংক লেনদেনে প্রতি ডলারের দর ছিল ৮৪ টাকা ২০ পয়সা। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অর্থনৈতিক চাপ ও অনিয়ন্ত্রিত অর্থপাচারসহ নানা কারণে রিজার্ভ কমতে থাকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় গ্রস রিজার্ভ নেমে আসে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে; আইএমএফের বিপিএম-৬ হিসাবে তখন রিজার্ভ ছিল ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে ডলারের বিনিময় হার বেড়ে ১২০ টাকা ছাড়িয়ে যায় এবং আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার ডলারের বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার সিদ্ধান্ত নেয়, প্রবাসী আয় বৃদ্ধিতে বিভিন্ন প্রণোদনা ও নীতিগত সহায়তা দেয় এবং ধীরে ধীরে আমদানি বিধিনিষেধ শিথিল করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উদারীকরণের পথে এগোয়। বর্তমান গভর্নর দায়িত্ব নেওয়ার পর রিজার্ভ থেকে এক ডলারও বিক্রি করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এদিকে ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকার আশপাশে স্থিতিশীল রয়েছে। আমদানিতে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও বাজারে ডলার সংকটের তীব্রতা নেই।

সর্বশেষ পরিস্থিতিতে ৩ মার্চ দিনশেষে গ্রস রিজার্ভ ৩৫ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, যা সাম্প্রতিক মাসগুলোর ধারাবাহিক পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। 

অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহ ও বাজারভিত্তিক বিনিময় হার নীতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে রিজার্ভের এ স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি টেকসই হতে পারে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়