২ দিনে ৪৪ কোটি টাকা আমানত পেল সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক: গভর্নর
ছবি: সংগৃহীত
সদ্য কার্যক্রম শুরু করা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে লেনদেনের প্রথম দুই কার্যদিবসে বড় ধরনের কোনো গ্রাহক চাপ তৈরি হয়নি, বরং নতুন আমানত সংগ্রহের মাধ্যমে ব্যাংকটি ইতিবাচক সূচনা করেছে। গত ১ ও ৪ জানুয়ারি ব্যাংকটি থেকে মোট ১০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা উত্তোলনের বিপরীতে ৪৪ কোটি টাকার নতুন আমানত জমা পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এই পরিস্থিতিকে নতুন ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকটির বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন গভর্নর।
তিনি জানান, ৫টি একীভূত ব্যাংকের প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দক্ষতায় কার্যক্রম অত্যন্ত স্থিতিশীলভাবে এগোচ্ছে। সাধারণত নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হলেও ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশের আওতায় মাত্র দুই মাসের মধ্যে মূলধন গঠন ও লেনদেন শুরু করা সম্ভব হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত দুই দিনে মোট ১৩ হাজার ৩১৪টি উত্তোলন লেনদেনের মাধ্যমে ১০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা গ্রাহকরা তুলে নিয়েছেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৬ কোটি টাকা উত্তোলন হয়েছে এক্সিম ব্যাংক থেকে। তবে আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো, একই সময়ে বিভিন্ন শাখা থেকে ৪৪ কোটি টাকা নতুন আমানত এসেছে। এর মধ্যে এক্সিম ব্যাংকে ২৪ কোটি ২৬ লাখ, ইউনিয়ন ব্যাংকে ১৫ কোটি ২৪ লাখ, এসআইবিএলে ৩ কোটি ৪৯ লাখ, গ্লোবাল ইসলামীতে ৬২ লাখ এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে ৪৮ লাখ টাকা জমা হয়েছে।
আরও পড়ুন: আমানত ফেরত দিচ্ছে একীভূত ৫ ব্যাংক
গভর্নর জানান, নতুন আমানতকারীরা যখন খুশি তাদের টাকা উত্তোলন করতে পারবেন এবং বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শরিয়াহভিত্তিক মুনাফা পাবেন।
আমানতকারীদের সুরক্ষায় মানবিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে ড. মনসুর বলেন, ক্যান্সার ও কিডনি ডায়ালাইসিসের রোগীদের প্রয়োজনে তাদের জমানো পুরো টাকা তোলার সুযোগ রাখা হচ্ছে। এক্ষেত্রে অ্যাকাউন্ট হোল্ডারকে সরাসরি রোগের বিস্তারিত নথিসহ আবেদন করতে হবে। সার্ভারে তথ্য হালনাগাদ না থাকায় এখন এটি কিছুটা সময়সাপেক্ষ হলেও আবেদন পেলে দ্রুত প্রসেস করা হবে। তবে আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে আবেদন করলে এই সুবিধা পাওয়া যাবে না।
ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও জনবল কাঠামো নিয়ে গভর্নর কঠোর বার্তা প্রদান করেন।
তিনি স্পষ্ট জানান, প্রায় ১২ হাজার কর্মীর মধ্যে সৎ ও যোগ্যদের মূল্যায়নের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং কারো চাকরি হারানোর ভয় নেই। তবে অতীতে যারা অর্থলুটে সহায়তা করেছেন বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, ফরেনসিক রিপোর্টের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাঁচটি ব্যাংকের অতীত অনিয়ম খতিয়ে দেখতে শিগগিরই ফরেনসিক অডিট শুরু হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
বর্তমানে সরকারি প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ব্যাংকটি পরিচালিত হলেও শিগগিরই স্বতন্ত্র পরিচালক, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বোর্ড গঠন করা হবে। এছাড়া সমন্বিত আইটি সিস্টেম চালু করা এবং নতুন নতুন শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগ পণ্য আনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী ১৯ জানুয়ারি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
গভর্নর আশা প্রকাশ করেন, স্বচ্ছ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে ব্যাংকটি দ্রুত একটি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








