News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১০:২০, ৮ জানুয়ারি ২০২৬
আপডেট: ১০:২১, ৮ জানুয়ারি ২০২৬

পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্টে ৩০০ টাকার বেশি নিতে পারবে না মানি চেঞ্জাররা

পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্টে ৩০০ টাকার বেশি নিতে পারবে না মানি চেঞ্জাররা

ফাইল ছবি

বিদেশগামী যাত্রীদের পাসপোর্টে বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্টের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে ওঠার পর এ বিষয়ে স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জাররা পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্টের জন্য সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত ফি নিতে পারবেন। বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ যত বেশি হোক না কেন, এই নির্ধারিত সীমার বাইরে কোনো অর্থ আদায় করা যাবে না।

বুধবার (০৭ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ (এফইপিডি) এ–সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা ও প্রজ্ঞাপন জারি করে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়। 

নির্দেশনাটি দেশে লাইসেন্সপ্রাপ্ত সব মানি চেঞ্জার এবং বৈদেশিক মুদ্রার অনুমোদিত ডিলারদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন সংক্রান্ত নির্দেশিকা (জিএফইটি)–২০১৮ অনুযায়ী লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানি চেঞ্জাররা বিদেশগামী বাংলাদেশি নাগরিকদের বার্ষিক ব্যক্তিগত ভ্রমণ ভাতার আওতায় বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রি করতে পারবেন। এর মধ্যে বিদেশি নোট, কয়েন এবং ট্রাভেলার্স চেক অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রতিটি বিক্রির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট যাত্রীর পাসপোর্টে তথ্য যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করা এবং আকাশপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিমান টিকিটেও এনডোর্সমেন্ট করা বাধ্যতামূলক। এ সময় মানি চেঞ্জারের অনুমোদিত কর্মকর্তার সিল ও স্বাক্ষর থাকতে হবে।

আরও পড়ুন: এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট: সারা দেশে সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্টের জন্য সার্ভিস চার্জ বা ফি হিসেবে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা নেওয়া যাবে। এনডোর্সমেন্টের পরিমাণ বেশি হলেও কোনো অবস্থাতেই এই সীমা অতিক্রম করা যাবে না। একই সঙ্গে প্রতিটি মানি চেঞ্জারকে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান স্থানে এনডোর্সমেন্ট ফি সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা—এ তথ্য স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করতে হবে।

এছাড়া গ্রাহকের কাছ থেকে এনডোর্সমেন্ট ফি আদায়ের পর অবশ্যই লিখিত রসিদ প্রদান করতে হবে। আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আদায়কৃত প্রতিটি ফি–এর সঠিক ও পৃথক হিসাব সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা প্রয়োজনে নিরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে দেখাতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এর আগে গত বছরের মে মাসে একই ধরনের নির্দেশনা ব্যাংকগুলোর জন্য জারি করা হয়েছিল। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংক ও মানি চেঞ্জার—উভয় ক্ষেত্রেই বিদেশগামী যাত্রীদের পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট ফি একীভূত হলো।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, এর আগে পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট ফি নির্ধারণে কোনো নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ সীমা না থাকায় যাত্রীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা, এক হাজার টাকা কিংবা তারও বেশি আদায়ের অভিযোগ ছিল। নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে খেয়ালখুশিমতো চার্জ আদায় বন্ধ হবে বলে আশা করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, এ বিষয়ে আগে জারি করা অন্যান্য সার্কুলার ও নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে এবং নতুন নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করতে সংশ্লিষ্ট সব মানি চেঞ্জার ও অনুমোদিত ডিলারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্রাহক সেবায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং বিদেশগামী যাত্রীদের হয়রানি কমবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়