News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৯:৫৯, ৮ জানুয়ারি ২০২৬

এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট: সারা দেশে সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ

এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট: সারা দেশে সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ

ফাইল ছবি

সারা দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের ন্যায্য দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।

বুধবার (০৭ জানুয়ারি) জারি করা এক নোটিশে সমিতি জানায়, বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি) থেকে বাংলাদেশের সব এলপিজি বিপণন ও সরবরাহ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে সব কোম্পানির প্লান্ট থেকে গ্যাস উত্তোলন কার্যক্রমও স্থগিত রাখা হবে।

এর আগে বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে এলপিজি ব্যবসায়ীরা তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেন। 

সেখানে তারা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হবে। সময়সীমার মধ্যে দাবি পূরণ না হওয়ায় বুধবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) পরিবেশকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য সমন্বয় করেছে। 

তাদের দাবি, এলপিজির প্রকৃত সংকট দূর করার পরিবর্তে বাড়তি দামের বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে এবং ভোক্তা অধিকার অভিযান পরিচালনা করে বাজারে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। এতে বহু পরিবেশক ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি সেলিম খান বুধবার রাত ১১টায় গণমাধ্যমকে জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ থাকবে। 

আরও পড়ুন: এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা রবিবার

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সঙ্গে তাদের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে দাবি মেনে নেওয়া হলে বিক্রি পুনরায় শুরু হবে, অন্যথায় বিক্রি বন্ধই থাকবে।

সমিতির লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জ্বালানি বিভাগ, বিইআরসি ও এলপিজি কোম্পানিগুলোর সমন্বয়ে আমদানি সমস্যা সমাধানই ছিল সঠিক পথ। কিন্তু সেটি না করে প্রশাসনের মাধ্যমে পরিবেশকদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে এবং জরিমানা করা হচ্ছে। 
তাদের অভিযোগ, এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে।

সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ২৭টি কোম্পানির প্রায় সাড়ে ৫ কোটি এলপিজি সিলিন্ডার বাজারজাত রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিল হচ্ছে, আর বাকি ৪ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডার খালি পড়ে আছে। অধিকাংশ সিলিন্ডার খালি থাকায় পরিবেশকদের খরচ বেড়ে গেছে এবং অনেক কোম্পানি কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেন তারা।

এ পরিস্থিতিতে পরিবেশক কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫ টাকা করার দাবি জানিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি।

এদিকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, এলপিজি পরিবেশকরা বিইআরসির লাইসেন্সধারী না হওয়ায় আইনগতভাবে তাদের দাবিগুলো সরাসরি বিবেচনার সুযোগ নেই। 

তিনি জানান, লাইসেন্সধারী আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব আসলে যাচাই-বাছাই শেষে গণশুনানি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং সেখানে যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে হবে।

অন্যদিকে, গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সাংবাদিকদের বলেন, দেশে এলপিজির কোনো ঘাটতি নেই। বাজারে যে সংকট দেখা যাচ্ছে, তা মূলত ‘কারসাজির’ ফল। বাজার নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

তবে এসব বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি জানিয়েছে, পরিবেশকদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুনভাবে এলপিজির মূল্য সমন্বয় করতে হবে এবং প্রশাসনের মাধ্যমে হয়রানি ও জরিমানা বন্ধ করতে হবে। এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলে জানায় সংগঠনটি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়