পোর্তোর বিপক্ষে জিতেও বিদায় রোনালদোর জুভেন্টাস
মঙ্গলবার রাতে অ্যালিয়েঞ্জ স্টেডিয়ামে ফিরতি লেগে কঠিন সমীকরণের ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন জুভেন্টাস। প্রথম লেগে পোর্তোর মাঠে ২-১ গোলে হারের ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে জিততেই হতো আন্দ্রে পিরলোর শিষ্যদের। মূল্যবান একটি অ্যাওয়ে গোল থাকায় কাজটও অনেকটা সহজ ছিল। ১-০ গোলে জিতলেও কোয়ার্টারে চলে যেতো ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোরা।
কিন্তু না! জুভেন্টাস ম্যাচ জিতল বটে, সেটা ৩-২ গোলের ব্যবধানে। ফলে দুই লেগের লড়াই শেষে অ্যাওয়ে গোলে এগিয়ে থাকার সুবাদে শেষে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ল পোর্তো। টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিল জুভরা। দুই লেগ মিলে স্কোরলাইন ৪-৪। অ্যাওয়ে গোলে শেষ আটের টিকেট পেল পোর্তো।
উত্তেজনার এই ম্যাচে সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। প্রথম পর্বে হারের ধাক্কা চেনা আঙিনায় কাটিয়ে উঠবে কী, উল্টো শুরুতেই গোল হজম করল জুভেন্টাস। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ঠিকই জমে উঠল লড়াই। এক জন কম নিয়েও কঠিন চ্যালেঞ্জ জানালো পোর্তো। ম্যাচ গড়ালো অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও প্রথম গোল পেল সফরকারীরা। ফলে ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়নরা ম্যাচ জিতলেও দুই লেগের লড়াই শেষে উচ্ছ্বাসে পর্তুগিজ দলটির।
জয় পেতে মরিয়া জুভেন্টাস এগিয়ে যেতে পারতো ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই। তবে ডান দিক থেকে হুয়ান কুয়াদরাদোর ক্রসে আলভারো মোরাতার জোরালো হেড ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক আগুস্তিন মারচেসিন। তবে ১৯তম মিনিটে পর্তুগিজ মিডফিল্ডার সার্জিও অলিভেইরার সফল স্পট কিকে পিছিয়ে পড়ে জুভেন্টাস। ডি-বক্সে তারেমিকে পেছন থেকে ফাউল করলে পেনাল্টিটি পায় পোর্তো। শেষ হয়ে যায় ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়নদের অ্যাওয়ে গোলের ন্যূনতম স্বস্তিটুকুও।
২৭তম মিনিটে আবারও হতাশ করেন মোরাতা। ডান দিক থেকে আসা ক্রসে বল বুক দিয়ে নামিয়ে দুরূহ কোণ থেকে গোলরক্ষক বরাবর শট নেন তিনি। অবশ্য সঠিক সময়ে এগিয়ে পথ আগলে দাঁড়ানোয় মারচেসিনের কৃতিত্ব কোনো অংশে কম নয়। দ্বিতীয়ার্ধের চতুর্থ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় জুভেন্টাস। বোনুচ্চির উঁচু করে বাড়ানো বল ডি-বক্সে পা দিয়ে নামিয়ে সামনেই দাঁড়ানো চিয়েসাকে শট নিতে ইশারা করেন রোনালদো। কোনাকুনি শটে ঠিকানা খুঁজে নিতে ভুল করেননি প্রথম লেগের শেষ দিকে দলকে অ্যাওয়ে গোল পাইয়ে দেয়া এই ইতালিয়ান ফরোয়ার্ড।
তিন মিনিটে জোড়া হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন তারেমি। ৫৪তম মিনিটে একজনকে ফাউল করে প্রথম হলুদ কার্ড পান তিনি। এর দুই মিনিট পর মাঝমাঠে জুভেন্টাসের দেমিরালকে ফাউল করেন মারেগা। রেফারির বাঁশি শুনেও বলে কিক করে বহিষ্কার হন তারেমি। এরপর ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পরপরই গোল হজম করতে বসেছিল পোর্তো।
অবশ্য ৬৩তম মিনিটে ঠিকই দলকে এগিয়ে নেন। ডান দিক থেকে কুয়াদরাদোর দারুণ ক্রস ছয় গজ বক্সে পেয়ে হেডে দুই লেগ মিলে স্কোরলাইন ৩-৩ করেন ২৩ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। ৭৮তম মিনিটে শেষ আটের পথে এগিয়ে যেতে পারতো জুভেন্টাস। কুয়াদরাদোর আরেকটি দারুণ ক্রস দারুণ পজিশনে পেয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হেডে হতাশ করেন রোনালদো। চার মিনিট পর চিয়েসার আরেকটি শট রুখে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক মারচেসিন।
অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের প্রথম ২৪ মিনিটে দুই দলের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। ১১৫তম মিনিটে দারুণ বুদ্ধিদীপ্ত ফ্রি কিকে ম্যাচে সমতা টানেন অলিভেইরা। অনেক দূর থেকে তার নেওয়া নিচু ফ্রি কিকে বল লাফিয়ে ওঠা রক্ষণ প্রাচীরের নিচ দিয়ে ঠিকানা খুঁজে পায়। গোলরক্ষক ভয়চেখ স্ট্যাসনি ঝাঁপিয়ে বলে হাত লাগালেও রুখতে পারেননি। ফেদেরিকো বের্নারদেস্কির ক্রসে হেডে দুই লেগ মিলে স্কোরলাইন ৪-৪ করেন আদ্রিওঁ রাবিও।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসএস/এফএ








