অসুস্থ মায়ের কারণে নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন শাহাদাত
প্রিয় মা মরণঘাতী ক্যান্সারে আক্রান্ত। তাকে সুস্থ করতে অনেক টাকা চাই। কিন্তু নিজের অপকর্মের কারণে উপার্জনের পথও বন্ধ! শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তিনি যে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ! হাঁ, আর কেউ নয়, বাংলাদেশ জাতীয় দলের পেস বোলার শাহাদাত হোসেন রাজিরে কথাই বলছি।
সর্বশেষ জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) গত আসরের ম্যাচ চলাকালীন এক সতীর্থ আরাফাত জুনিয়রের গায়ে হাত তুলে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হওয়ায় এক মাত্র রুটি-রুজির সব পথই তার আপাতত বন্ধ। অভাব তাকে এতটাই পেয়ে বসেছে যে উপায়ন্তু না দেখে শেষমেষ নিজের প্রিয় গাড়িটিও বিক্রি করে দিয়েছেন!
এই অবস্থায় মায়ের ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য আবার ক্রিকেটে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন অভিজ্ঞ এই পেসার। প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রথমে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালকদের ব্যক্তিগতভাবে ফোনে অনুরোধ করেন এরপরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বরাবর করেন আবেদন।
তার আবেদনে সাড়া দিতে যাচ্ছে বিসিবি। বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির প্রধান আকরাম খান নিজে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দুই পরিচালক ইসমাইল হায়দার মল্লিক ও নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। বোর্ডের এই দুই সদস্য ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ও না বলেননি।
এখন বিসিবির শৃঙ্খলা কমিটি থেকে ইতিবাচক সাড়া পেলেই জাতীয় ক্রিকেট লিগের এবারের আসর দিয়ে আবারও ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন শাহাদাত। সোমবার (৮ মার্চ) এ বিষয়ে আকরাম খান বলেন, ‘আপনারা জানেন গকত বছর এনসিএল চলাকালীন রাজিব একটা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছিল। তারপরে ক্রিকেট বোর্ড ওকে ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল। কিছুদিন আগে টিভিতে দেখেছি এবং ও ব্যক্তিগতভাবে আমাকে ফোন করেছে তাছাড়া একটি চিঠিও দিয়েছে যেহেতু ও একটা বিরাট পারিবারিক সমস্যায় পড়েছে। ওর আম্মার ক্যান্সার হয়েছে এবং সে কোনো ক্রিকেট খেলতে পারছে না।’
‘ফলে ওর বিষয়টি বিবেচনা করে আমি কয়েকজন পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছি বিশেষ করে মল্লিক ভাই ও দুর্জয়ের সঙ্গে। ওনারা ওর ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। আমরা শৃঙ্খলা কমিটির চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করেছি। আশা করছি ওখান থেকেও ইতিবাচক কিছুই আসবে। এর সাথে আমরা মাননীয় বোর্ড সভাপতিকেও জানিয়েছি এবং তিনিও ইতিবাচক আছেন। ও যেন এবারের এনসিএল থেকে পুরো ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে পারে সেই আশা করছি।’
উল্লেখ্য’ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৯ সালের ১৬ নভেম্বর, খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে জাতীয় ক্রিকেট লিগের ষষ্ঠ রাউন্ডের ম্যাচে স্বাগতিক খুলনা বিভাগের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন তর্কে জড়িয়ে সতীর্থ আরাফাত সানি জুনিয়রকে প্রথমে ধাক্কা দেন ঢাকা বিভাগের পেসার মোহাম্মদ শহীদ। এরপর তেড়ে এসে তার গায়ে হাত তোলেন শাহাদাত হোসেন রাজিব।
এ ঘটনায় মোহাম্মদ শহীদ ও আরাফাত সানির জুনিয়রকে একবছরের স্থগিত নিষেধাজ্ঞা দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিসিবি।
একই ঘটনায় ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের এক সময়ের নিয়মিত পেসার শাহাদাত। একই সাথেনগদ তিন লাখ টাকা জরিমানাও গুনতে হয়েছিল এই ক্রিকেটারকে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসএস/এএস








