News Bangladesh

স্পোর্টস ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:০১, ৯ জানুয়ারি ২০২৬

আইসিসিকে  বিস্তারিত জানিয়ে বিসিবির বার্তা

আইসিসিকে  বিস্তারিত জানিয়ে বিসিবির বার্তা

ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজন নিয়ে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) নতুন করে বিস্তারিত চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। 

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেল চারটার দিকে ই–মেইলের মাধ্যমে পাঠানো ওই চিঠিতে বিসিবি ভারতের ভেন্যুতে খেলা বাংলাদেশের জন্য কেন অনুকূল নয়, তা ব্যাখ্যা করেছে।

বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইসিসি নিরাপত্তা সংক্রান্ত শঙ্কাগুলোর সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা জানতে চাওয়ায় দ্বিতীয় দফায় এই চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রেক্ষাপট তুলে ধরার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নথি ও রেফারেন্স সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতে না রেখে সহ-আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের আবেদনও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

এর আগে, গত রোববার প্রথমবারের মতো আইসিসিকে ই–মেইল করে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে অপারগতার কথা জানায় বিসিবি। সেই চিঠির প্রেক্ষিতে আইসিসি পাল্টা বার্তায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগগুলো বিস্তারিতভাবে জানাতে বলে। বিসিবি এখন আইসিসির চূড়ান্ত জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে। এই জবাবের ওপরই নির্ভর করবে বাংলাদেশ দল আসন্ন বিশ্বকাপে অংশ নেবে কি না।

উল্লেখ্য, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র এক মাস আগে ভেন্যু পরিবর্তন কঠিন বলে আইসিসি বিসিবিকে আগেই জানিয়েছে। 

একই সঙ্গে আইসিসি দাবি করেছে, ভারতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের কোনো শঙ্কা নেই। 

যদিও তারা বলেছে, পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ার পর বিসিবি বাড়তি কিছু যোগ করতে চাইলে তা বিবেচনা করা হবে।

আইসিসির প্রাথমিক জবাব পাওয়ার পর বুধবার বিকেলে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের সঙ্গে বৈঠক করেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও বোর্ডের একাধিক পরিচালক। বৈঠক শেষে বিসিবি সভাপতি ভারতের সফরে না যাওয়ার বিষয়ে বোর্ডের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন: ক্রিকেটের স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের ‘দায়িত্বশীল’ হওয়ার আহ্বান তাসকিনের

আসিফ নজরুল সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সরকার জাতীয় সম্মান কিংবা বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপস করবে না। 

তিনি স্পষ্ট করে জানান, বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের দাবিতে সরকার অনড়। পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনও একই অবস্থানের কথা জানান। 

তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশ দলকে ভারতে পাঠাতে সরকার আগ্রহী নয়।

বিসিবির এক পরিচালক ভারতীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পরপরই দ্বিতীয় দফা চিঠি পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং সেখানে আইসিসিকে আগের তুলনায় আরও সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। 

বিসিবি আশা করছে, শনিবারের মধ্যেই আইসিসির জবাব পাওয়া যাবে। 

অন্যদিকে, একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ১০ জানুয়ারির মধ্যে আইসিসির অবস্থান পরিষ্কার হতে পারে।

বিসিবির চিঠিতে ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের পেছনে একটি বড় উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে আইপিএল সংশ্লিষ্ট সাম্প্রতিক ঘটনা। গত ডিসেম্বরে আইপিএলের মিনি নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে নেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। তবে পরবর্তীতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) একটি নির্দেশনার পর কেকেআর মুস্তাফিজকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিতে বাধ্য হয়। 

বিসিবির মতে, এই ঘটনা ভারতের পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত অনিশ্চয়তার একটি বড় উদাহরণ।

বিসিবি আরও জানিয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালে শুধু ক্রিকেটাররাই নয়, বাংলাদেশ থেকে সাংবাদিক, পৃষ্ঠপোষক ও বিপুলসংখ্যক দর্শক ভারতে যাবেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখানে বাংলাদেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত নয় বলেই বোর্ড মনে করছে।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল বিসিবিকে সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। 

বুধবার সিটি ক্লাব মাঠে জিয়া আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে তামিম বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বার্থ ও ভবিষ্যৎ বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার বিকল্প নেই।

তামিম আরও বলেন, বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় জনসমক্ষে মন্তব্য করার আগে বোর্ডের ভেতরেই আলোচনা করা উচিত। কারণ প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান নিলে সেখান থেকে সরে আসা কঠিন হয়ে যায়। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ক্রিকেট আয়ের প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশই আসে আইসিসি থেকে। তাই যে সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক, সেটি যেন বাংলাদেশের জন্য সর্বোত্তম হয়—সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, আইসিসির আসন্ন সিদ্ধান্তের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে বিসিবি ও দেশের ক্রিকেটাঙ্গন। আইসিসির জবাবই নির্ধারণ করবে ভারতে বা শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলা এবং পুরো টুর্নামেন্ট ঘিরে পরবর্তী পথচিত্র।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়