নিউট্রিনো কি
ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ সালে মহাজাগতিক নিউট্রিনো কণা বা ভূতুড়ে কণা নিয়ে গবেষণার জন্য পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বেলজিয়ান-আমেরিকান বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন।
তিনি মূলত দক্ষিণ মেরুতে অবস্থিত 'আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে তার অসামান্য অবদান এবং উচ্চ-শক্তির মহাজাগতিক নিউট্রিনো আবিষ্কারের জন্য এই পুরস্কার লাভ করেন।
তবে এর আগেও অতীতে নিউট্রিনো কণা নিয়ে কাজের জন্য আরও পর্যায়ক্রমে আর দুজন বিজ্ঞানী নোবেল পান। এরমধ্যে ১৯৮৮ সালে ফ্রেডেরিক রেইনেস এবং ক্লাইড কাওয়ান নোবেল পান নিউট্রিনো কণার অস্তিত্ব পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করার জন্য। এর পর ২০১৫ সালে তাকাআকি কাজিতা এবং আর্থার বি. ম্যাকডোনাল্ড নিউট্রিনো অসিলেশন বা রূপান্তর আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কার পান।
নিউট্রিনো কি
ইতালীয় ভাষায় নিউট্রিনো শব্দের অর্থ ক্ষুদ্র নিরপেক্ষ কণা। নিউট্রিনো হলো পদার্থের সবচেয়ে মৌলিক কণাগুলোর মধ্যে একটি, যার কোনো বৈদ্যুতিক চার্জ নেই এবং ভর অত্যন্ত নগণ্য।
আরও পড়ুন: অণুর একহাতি রহস্যে রসায়নে নোবেল বিজয়ী কাগান ও সোয়াই
বৈশিষ্ট্য
• নিউট্রিনোর কোনো বৈদ্যুতিক আধান বা চার্জ নেই। ফলে এরা তাড়াহুড়ো বা তড়িৎচৌম্বকীয় বল দ্বারা প্রভাবিত হয় না।
• এরা খুব দুর্বলভাবে অন্যান্য পদার্থের সাথে প্রতিক্রিয়া বা মিথস্ক্রিয়া করে। এ কারণে প্রতি মুহূর্তে কোটি কোটি নিউট্রিনো আমাদের শরীর ও পৃথিবীর বুক ভেদ করে চলে গেলেও আমরা তা টের পাই না। তাই একে "ভূতুড়ে কণা" (Ghost particle) বলা হয়।
• দীর্ঘকাল বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল নিউট্রিনোর কোনো ভর নেই। তবে আধুনিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে এদের খুব সামান্য হলেও ভর আছে।
• সূর্যসহ নক্ষত্রের ভেতরের পারমাণবিক ফিউশন প্রক্রিয়া, তেজস্ক্রিয় ক্ষয় এবং সুপারনোভা বিস্ফোরণের সময় প্রচুর নিউট্রিনো তৈরি হয়। এমনকি একটি সাধারণ কলার মধ্যেও তেজস্ক্রিয় পটাশিয়ামের কারণে নিউট্রিনো তৈরি হয়।
• নিউট্রিনো মূলত তিন ধরনের হয়ে থাকে। ইলেকট্রন নিউট্রিনো, মিউয়ন নিউট্রিনো এবং টাউ নিউট্রিনো। এরা এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তরিত হতে পারে, যাকে নিউট্রিনো দোলন (Neutrino oscillation) বলা হয়।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি








