নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:১০, ৩১ আগস্ট ২০২৬

‘বিএনপি মানেই গণতন্ত্র ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের সংগ্রাম’

‘বিএনপি মানেই গণতন্ত্র ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের সংগ্রাম’

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আগামীকাল মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর)। ১৯৭৮ সালের এই দিনে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দলটি এবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রেক্ষাপটে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী দলটির রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন মাত্রা পেয়েছে। 

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ওই নির্বাচনে বিএনপি ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পায় এবং দলটি ২০৯টি আসনে জয়ী হয়; বিএনপি ও তাদের জোটের মোট জয় ছিল ২১৩ আসন। পরে ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সামনে রেখে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বিএনপির ৪৮ বছরের পথচলাকে সাহস, সংগ্রাম, ত্যাগ ও সাফল্যের ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনটি দেশের মানুষের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার। 

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার রমনা বটমূলের খোলা চত্বরে, রমনা রেস্তোরাঁ প্রাঙ্গণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাকে তিনি দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বাণীতে তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের ১৯৭৫-পরবর্তী পরিস্থিতি তুলে ধরে দাবি করেন, মানুষের বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন এবং নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতির অধিকার ফিরিয়ে দেন। 

তার বক্তব্য অনুযায়ী, সেই ধারাবাহিকতায় নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের নতুন পথচলা তৈরি করে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক নেতৃত্বের কথাও উল্লেখ করেন। 

তারেক রহমানের ভাষ্য, খালেদা জিয়া তার নেতৃত্ব ও ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে বিএনপিকে দেশের সর্বস্তরে বিস্তৃত করেছিলেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্র পরিচালনার সময়কার রাজনৈতিক উদ্যোগের বিষয়টিও দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। বিএনপির দলীয় বর্ণনায় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা ও গণতন্ত্রকে দলটির রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়। দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকা, মুক্তিযুদ্ধের সময় তার নেতৃত্ব এবং পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন পদক্ষেপকে বিএনপি তাদের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বাণীতেও তারেক রহমান বিএনপির প্রতিষ্ঠার পটভূমি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দলের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা তুলে ধরেছেন।

তারেক রহমান তার বাণীতে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আত্মত্যাগের কথাও স্মরণ করেছেন। 

তিনি বলেন, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র যখনই হুমকির মুখে পড়েছে, তখনই বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধে ভূমিকা রেখেছেন। দল প্রতিষ্ঠার পর থেকে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা প্রাণ দিয়েছেন কিংবা আহত হয়েছেন, তাদের অবদানও তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে বিএনপি সরকারে থাকার বিভিন্ন সময়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের উল্লেখ করে তিনি সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, নারীশিক্ষার প্রসারসহ বিভিন্ন উদ্যোগকে দলটির শাসনামলের অর্জন হিসেবে তুলে ধরেছেন।

এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর রাজনৈতিক তাৎপর্যও আগের বছরগুলোর তুলনায় আলাদা। প্রায় দুই দশক পর ২০২৬ সালে বিএনপি আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে এসেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হয়। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথমবার সরকারপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ফলে ২০২৬ সালের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন দলটি দীর্ঘ বিরোধী রাজনৈতিক পথ অতিক্রম করে আবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে।

নির্বাচনের ফলাফলের প্রসঙ্গও তারেক রহমানের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বাণীতে উঠে এসেছে। 

তিনি বলেন, দেশের জনগণ যখন অবাধ, সুষ্ঠু ও নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, তখন বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। দীর্ঘ দেড় দশকের শাসন-শোষণের অবসানের পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ আবার বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে এমন দাবি করে তিনি বলেন, জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিএনপি জনগণের আস্থার প্রতিদান দিতে চায়। 

আরও পড়ুন: প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিএনপির ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা

তার বক্তব্য অনুযায়ী, জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য এবং সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।

চলতি বছরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির শক্তিশালী অবস্থানের পরিসংখ্যান দলটির বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানকে স্পষ্ট করে। নির্বাচন কমিশনের হিসাবে বিএনপি ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। 

বাসসের প্রকাশিত নির্বাচনী ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পায় এবং বিএনপি ও তাদের জোটের মোট আসন দাঁড়ায় ২১৩। তারেক রহমান নিজেও ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন।

বিএনপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তারেক রহমান তার বাণীতে দলীয় অবস্থানও স্পষ্ট করে বলেছেন, দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। 

তার ভাষায়, বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। তিনি দলের নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রেখে দেশসেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। গত ২৬ আগস্ট নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথসভা শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। 

তিনি বলেন, ৪৮ বছরের পথচলায় দলটি অনেক সংগ্রাম, সংকট ও শোকের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে এবং এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী দলীয় নেতাকর্মী ও অঙ্গসংগঠনের অংশগ্রহণে পালন করা হবে।

ঘোষিত কর্মসূচির শুরু হবে ১ সেপ্টেম্বর ভোর ৬টায়। ওই সময় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। এরপর সকাল ৯টায় বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে যাবেন। সেখানে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণের কর্মসূচি রয়েছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক নয়। দলের ঘোষণা অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং তাদের অধীন ইউনিটগুলো ১ সেপ্টেম্বর সুবিধাজনক সময়ে আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকেও এসব আয়োজনে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলও জানিয়েছে, ১ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৮টায় তাদের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের নেতাকর্মীরা জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। দেশব্যাপী সংগঠনটির নেতাকর্মীরা বিএনপির মূল কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে আলোচনা সভা, বৃক্ষরোপণ ও মৎস্য অবমুক্তকরণে সহযোগিতা করবেন।

কর্মসূচির দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হবে ৫ সেপ্টেম্বর। ওই দিন বিকেল ৩টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন-বাংলাদেশ মিলনায়তনে বিএনপি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাশাপাশি দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদেরও এতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলীয় পোস্টার প্রকাশের কথাও জানিয়েছে বিএনপি।

এর বাইরে পরিবেশ ও জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিও রাখা হয়েছে। দলের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, উপযুক্ত সময়ে বৃক্ষরোপণ ও উন্মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য পোনা অবমুক্ত করা হবে। মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। একই ধরনের কর্মসূচি স্থানীয় পর্যায়েও পালনের নির্দেশনা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলা ও মহানগর ইউনিটও আলাদা প্রস্তুতি নিচ্ছে। যেমন চাঁদপুরে জেলা বিএনপি জেলার আট উপজেলায় দুই হাজার করে মোট ১৬ হাজার গাছের চারা রোপণের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে দলটির সামাজিক ও পরিবেশভিত্তিক কর্মসূচির বিস্তারের চিত্রও উঠে এসেছে।

৪৮ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিএনপি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে একাধিকবার সরকার পরিচালনা করেছে এবং দীর্ঘ সময় বিরোধী দল হিসেবেও রাজপথে সক্রিয় থেকেছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে দলটির আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন এবং তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রধান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। একই সঙ্গে দলটির সামনে রয়েছে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, সুশাসন, জবাবদিহি, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, নাগরিক অধিকার ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার প্রত্যাশা। নির্বাচনের আগে প্রকাশিত বিএনপির ইশতেহারে পাঁচ বছরের পরিকল্পনায় ৫১টি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে কর্মসংস্থান, সুশাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক ও খাদ্য নিরাপত্তা, আইনের শাসন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও সুষম উন্নয়নের কথা বলা হয়েছিল।

ফলে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুধু একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছর পূর্তির আনুষ্ঠানিকতা নয়; ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের পর বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন, নির্বাচনী অঙ্গীকার এবং রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে জনআলোচনারও উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। তারেক রহমানের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বাণীতে যেমন দলের অতীত সংগ্রাম ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার তুলে ধরা হয়েছে, তেমনি বর্তমান সরকারের সামনে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং জনকল্যাণ নিশ্চিত করার প্রত্যয়ের কথাও এসেছে। এখন প্রতিষ্ঠার ৪৮তম বছরে বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে সেই রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তব কর্মসূচি ও ফলাফলে কতটা রূপ দেওয়া যায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আবহে সেই প্রশ্নই সামনে থাকছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়