News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:৫৪, ৪ মার্চ ২০২৬
আপডেট: ২১:৫৫, ৪ মার্চ ২০২৬

ইরানে হামলায় ঢাকার সরাসরি নিন্দা চায় তেহরান

ইরানে হামলায় ঢাকার সরাসরি নিন্দা চায় তেহরান

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের প্রেক্ষিতে ওআইসি ও ন্যাম সদস্য দেশ হিসেবে বাংলাদেশের কাছ থেকে সরাসরি নিন্দা ও জোরালো প্রতিবাদ প্রত্যাশা করেছে ইরান। 

বুধবার (০৪ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী এই প্রত্যাশার কথা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে হামলাকারী দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নাম সরাসরি উল্লেখ না করার প্রসঙ্গ উত্থাপিত হলে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ একটি মুসলিম দেশ; একই সঙ্গে ওআইসি এবং ন্যামের সদস্য। সে হিসেবে একটি আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া প্রত্যাশিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মুসলিম দেশগুলোর উচিত আক্রান্ত মুসলিম রাষ্ট্রের প্রতি সহানুভূতি ও সমর্থন জানানো এবং নিজেদের ভূখণ্ড বা সুবিধা ব্যবহার করে অন্য দেশে হামলার সুযোগ না দেওয়া- যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাষ্ট্রদূত জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানজুড়ে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। 

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, তার কন্যা, জামাতা ও নাতি নিহত হয়েছেন এবং বহু বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ৮০০ জন ‘শাহাদাত বরণ’ করেছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

খামেনি হত্যাকাণ্ডকে ‘কাপুরুষোচিত’ উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, সর্বোচ্চ নেতা কোনো বিশেষ আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলেন না; তিনি নিজ কার্যালয়ে কাজ করার সময় আকস্মিক হামলার শিকার হন। এটি ইরানের গোয়েন্দা সংস্থার ব্যর্থতা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘নিকৃষ্ট পরিকল্পনা’- এমন অভিযোগ তোলেন তিনি।

ইরান দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে বলে জোর দিয়ে জানান রাষ্ট্রদূত। 

তার দাবি, ইরানের কাছে পর্যাপ্ত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রসহ প্রয়োজনীয় সামরিক শক্তি রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছে। 

আরও পড়ুন: দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে ‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশ

তিনি বলেন, আমরা যতদিন যুদ্ধ চালাতে চাই, চালাতে সক্ষম।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ইরান অন্য কোনো দেশের কাছ থেকে লজিস্টিক সহায়তা চায় না; তবে একটি মুসলিম দেশ আক্রান্ত হলে অন্য মুসলিম দেশগুলোর নৈতিক সমর্থন প্রত্যাশা করে। চীনের সঙ্গে কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি না থাকায় তারা সরাসরি পাশে দাঁড়াতে পারছে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আমরা এখন আমেরিকা ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আছি। তারা যত অপকৌশলই প্রয়োগ করুক, আমরা প্রতিরোধ অব্যাহত রাখব। এমনকি প্রতিবেশী দেশে আমেরিকানরা যেখানেই থাকুক, তাদের ‘টার্গেটে পরিণত’ করা হবে বলেও মন্তব্য করেন।

ইরানের পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত জানান, বর্তমানে তিন সদস্যের একটি কমিটি প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন সদস্য রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব এক্সপার্ট কাউন্সিলের ওপর ন্যস্ত, এবং অল্প সময়ের মধ্যেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি দাবি করেন, যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে কোনো স্লোগান দেয়নি; বরং খামেনি নিহত হওয়ার পর লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমেছে। তাঁর ভাষায়, ইরানিরা জাতীয়তাবাদী এবং বাইরের আগ্রাসনের মুখে ঐক্যবদ্ধ।

ইরানে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত জানান, তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কতজন বাংলাদেশি বর্তমানে ইরানে রয়েছেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো পরিসংখ্যান তার হাতে নেই বলে উল্লেখ করেন। তবে তেহরানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ইরান সরকার ইরানি ও বিদেশি নাগরিকের মধ্যে পার্থক্য করে না; দেশে অবস্থানরত সবার নিরাপত্তা ও সমস্যা সমাধানে সমানভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ইরান কোনো দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসী হবে না; তবে যে কোনো আগ্রাসনের জবাবে ‘শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত’ প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়