News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৪:২১, ১ মার্চ ২০২৬

ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ৫৪ ফ্লাইট বাতিল

ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ৫৪ ফ্লাইট বাতিল

ছবি: সংগৃহীত

ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার প্রভাবে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগে স্থবিরতা নেমে এসেছে। 

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে রবিবার (০১ মার্চ) দুপুর পর্যন্ত ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ৫৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি যাত্রী চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তির মুখে পড়েছেন, যাদের বড় একটি অংশই কর্মস্থলে ফেরার অপেক্ষায় থাকা প্রবাসী শ্রমিক।

রবিবার দুপুরে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

তিনি জানান, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষাপটে বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ নিজেদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইটগুলো স্থগিত রাখা হয়। তবে ফ্লাইট চলাচল কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, শুধু শনিবারই ২৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়, যাতে প্রায় ১০ হাজার যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। রোববার দুপুর পর্যন্ত মোট বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৪-এ। এতে প্রবাসী কর্মী ও মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীরা চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন। ইউরোপসহ অন্যান্য অঞ্চলের ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেও একই প্রভাব দেখা গেছে। রোববার সকালে মধ্যপ্রাচ্যগামী ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট (৭টি আগমনী ও ৩টি বহির্গামী) বাতিল ঘোষণা করা হয়। 

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্লাইট স্থগিত

ফ্লাইট বাতিলের ফলে বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভোগান্তির চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সীমিত মেয়াদের ভিসাধারীরা বিশেষভাবে উদ্বেগে পড়েছেন। ওমানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় আসা মো. সাগর জানান, গত শুক্রবার তিনি ঢাকায় আসেন এবং শনিবার তার ফ্লাইট ছিল। কিন্তু বাতিল হওয়ায় তিনি যাত্রা করতে পারেননি। তার ভিসার মেয়াদ আর মাত্র ছয় দিন রয়েছে; এর মধ্যে যেতে না পারলে ওমানে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। সরকারিভাবে থাকা–খাওয়ার ব্যবস্থা দেওয়ার ঘোষণা এলেও তিনি সেই সুবিধা পাননি বলে অভিযোগ করেন।

গতকাল বিকেলে প্রথম দফায় ফ্লাইট বাতিলের পর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানায়, যেসব যাত্রীর ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, তাদের রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা করা হবে। এজন্য প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক বা লাউঞ্জে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়। 

বিমানবন্দর সূত্র বলছে, অনেক যাত্রীকে থাকার ব্যবস্থা করা হলেও অনেকে নিজ নিজ গ্রাম বা বাসায় ফিরে গেছেন। ফ্লাইট সূচি স্বাভাবিক হলে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলো মুঠোফোনে যাত্রীদের অবহিত করবে।

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জানিয়েছে, শনিবার বাতিল হওয়া ঢাকা-মদিনা রুটের বিজি-৩৩৭ ফ্লাইটটি রবিবার বিকেল ৪টায় এবং ঢাকা-জেদ্দা রুটের বিজি-৩৩৫ ফ্লাইটটি সন্ধ্যা ৭টায় ছেড়ে যাবে। যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ে বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সংস্থাটি আরও বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে।

বেসরকারি এয়ারলাইন্স ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা এবং ওমানের মাসকাটে তাদের ফ্লাইট নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরিচালিত হবে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ এবং কাতারের রাজধানী দোহায় ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুকূল হলে যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে বলে জানানো হয়। যাত্রীদের ফ্লাইট সূচির চার ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, এয়ার ইন্ডিগোসহ কয়েকটি এয়ারলাইন্সের তাৎক্ষণিক ফ্লাইট বাতিলের কারণে বহু যাত্রী বিমানবন্দরে এসে বিপাকে পড়েছেন। তথ্য প্রাপ্তিতে অসহযোগিতার অভিযোগও উঠেছে।

সামগ্রিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট সূচিতে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ধাপে ধাপে ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে বিমানবন্দর ও এয়ারলাইন্স সূত্রে জানা গেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়