ভুল করে ৩ মার্কিন যুদ্ধ বিমান ভূপাতিত করেছে কুয়েত
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই কুয়েতে এক ভয়াবহ ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ বা মিত্রবাহিনীর ভুল গোলার আঘাতে মার্কিন বিমানবাহিনীর তিনটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বিধ্বস্ত হওয়া প্রতিটি যুদ্ধবিমানের মূল্য কয়েক কোটি ডলার।
সোমবার (০২ মার্চ) কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থেকে ভুলবশত ছোড়া গোলার আঘাতে এই ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিট ভুলবশত মার্কিন বিমানগুলোকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ওই সময় এলাকার পরিস্থিতি ছিল ক্রমবর্ধমান যুদ্ধকালীন; ইরানের বিমান, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চলছিল। এর ফলে মার্কিন বিমানগুলোকে শত্রু লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ভুলভাবে শনাক্ত করা হয়।
বিধ্বস্ত তিনটি বিমানই এফ-১৫ স্ট্রাইক ইগল মডেলের, প্রতিটি বিমানে দুইজন করে ক্রু ছিল। মোট ছয়জন আরোহী প্যারাশুটের মাধ্যমে নিরাপদে বের হতে সক্ষম হন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে সকলের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
আরও পড়ুন: চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন খামেনির স্ত্রী
সেন্টকম জানিয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানগুলো ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামের ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে উড়ছিল। তারা এই ঘটনায় কুয়েত সরকারের দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা এবং চলমান অভিযানে সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও ঘটনাটি স্বীকার করেছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কর্নেল সাইদ আল-আতোয়ান বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষরা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। ক্রুদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা সিএনএন এবং রয়টার্সের ভৌগোলিক অবস্থান শনাক্ত করা ভিডিওতে দেখা গেছে, উড়োজাহাজগুলো কুয়েতে অবস্থিত আলি আল সালেম বিমানঘাঁটির কাছাকাছি বিধ্বস্ত হচ্ছে। ভিডিওতে পাইলটদের প্যারাশুটের মাধ্যমে নিরাপদে নিচে নামতে দেখা গেছে। এক ভিডিওতে মরুভূমি এলাকার কাঁটাতারের কাছে একজন পাইলট পুরো ফ্লাইট স্যুট ও হেলমেট পরে হাঁটু গেড়ে বসে আছেন, আর দূরে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে সামরিক হস্তক্ষেপের সমর্থন সীমিত; রয়টার্স/ইপসোসের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র এক-চতুর্থাংশই ইরানে হামলার পক্ষে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সতর্ক করেছেন, হামলা অব্যাহত থাকলে মার্কিন সেনাদের হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিদেশের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়া ঘটনা সাধারণত গভীর তদন্তের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে। সেন্টকম জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








