দুবাইয়ের ফাইভ-স্টার হোটেলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, আহত ৪
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের অস্থিরতা এখন এক ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার পূর্ববর্তী সংঘাতের সীমা ছাড়িয়ে বর্তমানে এই আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানের মতো স্থিতিশীল রাষ্ট্রগুলোতেও।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র প্রতিক্রিয়ায় ইরান ও তার মিত্র দেশগুলোর নজিরবিহীন পাল্টা হামলায় পুরো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে। সংঘাতের সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে পর্যটনের স্বর্গরাজ্য দুবাইয়ে।
শনিবার দুবাইয়ের কৃত্রিম দ্বীপ পাম জুমেইরাহ সংলগ্ন বিশ্বখ্যাত পাঁচ তারকা হোটেল ‘ফেয়ারমন্ট’-এ একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হোটেলের প্রবেশদ্বারে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে এবং এখন পর্যন্ত চারজন আহত হয়েছেন। আকাশসীমা বন্ধ থাকায় অনেক যাত্রী ও শহরবাসী আটকা পড়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনী এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তৎপর।
আরও পড়ুন: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারে আহত ৮
বাহরাইনেও ইরানি ড্রোন আঘাত বহুতল ভবনে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটায়। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা ও মার্কিন নৌঘাঁটিতে হামলার খবর পাওয়া গেছে। কুয়েত বিমানবন্দরে একটি ড্রোন বিধ্বস্ত হয়ে কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন এবং বিমানবন্দর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে।
ইরাকের ইরানপন্থি পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সের ঘাঁটিতে মার্কিন বা ইসরায়েলি হামলার জবাবে কাতায়েব হিজবুল্লাহর অন্তত দুই সদস্য নিহত হয়। ইয়েমেনের হুথি এবং ইরাকের অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী অঞ্চল জুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
সংঘাতের এই বিস্তার এবং ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন অস্থিতিশীলতার দিকে ধাবিত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানালেও, বর্তমানে অঞ্চলটি সামরিক উত্তেজনা, নাগরিক বিপদ এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির একটি সঙ্কটময় অবস্থায় রয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








