News Bangladesh

তথ্য-প্রযুক্তি ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:৪২, ২ জানুয়ারি ২০২৬

বছরের শুরুতেই আকাশে ‘উলফ সুপারমুন’

বছরের শুরুতেই আকাশে ‘উলফ সুপারমুন’

ছবি: সংগৃহীত

আগামীকাল শনিবার (৩ জানুয়ারি, ২০২৬) বছরের শুরুতেই এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ববাসী। এদিন আকাশে দেখা যাবে বছরের প্রথম পূর্ণিমা, যা একই সঙ্গে একটি ‘সুপারমুন’। জ্যোতির্বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলা হচ্ছে ‘উলফ সুপারমুন’। বিশেষ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই চাঁদ সাধারণ সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বড় ও উজ্জ্বল দেখাবে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, পূর্ণিমার সময় চাঁদ যখন তার কক্ষপথে পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে (পেরিজি) চলে আসে, তখন তাকে ‘সুপারমুন’ বলা হয়। আগামীকাল চাঁদ পৃথিবী থেকে প্রায় ৩ লাখ ৬২ হাজার ৩১২ কিলোমিটার দূরে থাকবে। জানুয়ারির এই পূর্ণিমাকে ঐতিহ্যগতভাবে ‘উলফ মুন’ বলা হয়। একে অনেক সময় ‘কোল্ড মুন’ বা ‘হার্ড মুন’ হিসেবেও অভিহিত করা হয়। গত বছরের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সুপারমুনের যে ধারাবাহিকতা চলছিল, কালকের এই ঘটনাটি হতে যাচ্ছে তার শেষ পর্ব।

এবারের সুপারমুনটি অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশি বিশেষ ও দ্যুতিময় হওয়ার পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে:

১. পেরিজি অবস্থান: চাঁদ পৃথিবীর স্বাভাবিক গড় দূরত্বের চেয়ে অনেক কাছাকাছি থাকায় এটিকে প্রায় ১৪ শতাংশ বড় এবং ৩০ শতাংশ বেশি উজ্জ্বল দেখাবে। 

২. পেরিহেলিয়ন প্রভাব: বর্তমানে পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে (পেরিহেলিয়ন) রয়েছে। এ সময় পৃথিবী সূর্যের প্রায় ৩.৪ শতাংশ বেশি কাছে থাকায় চাঁদের ওপর সূর্যের আলোর প্রতিফলন বেশি ঘটে। ফলে পূর্ণিমার চাঁদ সাধারণ সময়ের তুলনায় আরও প্রায় ৬.৫ শতাংশ বেশি উজ্জ্বলতা ছড়াবে।

আরও পড়ুন: লেবুর মতো আকৃতির অদ্ভুত গ্রহের সন্ধান

শনিবার সকাল ১০টা নাগাদ চাঁদ তার পূর্ণতম অবস্থায় পৌঁছাবে। তবে শুক্রবার রাত থেকেই আকাশে বড় ও উজ্জ্বল গোলকের মতো চাঁদ দেখা যাবে। উত্তর গোলার্ধে শীতকালে বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকায় আকাশ সাধারণত পরিষ্কার থাকে, যা এই দৃশ্য দেখার জন্য উপযুক্ত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুপারমুন দেখার জন্য কোনো বিশেষ যন্ত্রের প্রয়োজন নেই। তবে চাঁদ যখন দিগন্তরেখার কাছাকাছি অর্থাৎ বিভিন্ন ভবন বা গাছের পাশে থাকে, তখন এর বিশালতা ও নাটকীয় রূপ খালি চোখে আরও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। এরপর চাঁদ আকাশে যত উপরে উঠবে, পৃথিবীর কোনো বস্তুর সঙ্গে তুলনা করার সুযোগ না থাকায় এটি দেখতে কিছুটা ছোট মনে হতে পারে।

একই সময়ে আকাশে ‘কোয়াড্রান্টিড’ উল্কাবৃষ্টি হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সুপারমুনের তীব্র উজ্জ্বলতার কারণে এবার উল্কাবৃষ্টি দেখা কিছুটা কঠিন হতে পারে। সাধারণ চাঁদের তুলনায় সুপারমুন প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি আলো ছড়ায় বলে ছোট বা আবছা উল্কাগুলো এই আলোয় ঢাকা পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের জানুয়ারির পর লম্বা সময় আর কোনো সুপারমুন দেখা যাবে না। ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বরের আগে আকাশে আর কোনো পূর্ণ সুপারমুন দেখার সুযোগ নেই। তাই প্রকৃতির এই বিরল সৌন্দর্য উপভোগ করতে আকাশ পর্যবেক্ষক ও প্রকৃতিপ্রেমীদের আগামীকাল রাতের আকাশের দিকে চোখ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট, ইন্ডিপেনডেন্ট।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়