এআই দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিও চেনার উপায়
ছবি: সংগৃহীত
ডিজিটাল যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আমাদের জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত হয়ে গেছে। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে শুধুমাত্র ছবি নয়, ভিডিও এবং স্বরও তৈরি করা সম্ভব। তবে বাস্তব ছবি ও এআই-জেনারেটেড কনটেন্টের মধ্যে পার্থক্য চিহ্নিত করা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।
সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের কনটেন্ট ব্যবহার করে প্রতারণা, বিভ্রান্তি ও ভুয়া তথ্য ছড়ানোর ঘটনাও বেড়েছে। এজন্য বিশেষ সতর্ক থাকা ও এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট চেনার কৌশল জানা জরুরি।
ছবি ও ভিডিওতে অস্বাভাবিকতা খুঁজে শনাক্তকরণ
এআই-জেনারেটেড ছবিতে প্রায়শই ছোটখাটো ত্রুটি লক্ষ্য করা যায়। বিশেষত মানুষের চোখ ও হাতের অঙ্গভঙ্গি, আঙুলের সংখ্যা এবং আকার প্রায়ই অসামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে। অনেক সময় ছবিতে ছয়টি আঙুল দেখা যায় বা হাত অস্বাভাবিকভাবে বাঁকানো থাকে। চোখের প্রতিচ্ছবি অনিয়মিত বা অনুপস্থিত থাকায় ছবিটি বাস্তব কিনা তা সহজেই বোঝা যায়।
ছবির পটভূমি প্রায়ই অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। রাস্তার দৃশ্য, গাছ, যানবাহন বা আলোর অবস্থা বাস্তবতার সঙ্গে মিলতে নাও পারে। ছোটখাটো উপাদান যেমন চশমার ফ্রেম, কানের দুল, কাপড়ের নকশা বা ঘড়ির ডায়াল প্রায়ই ঝাপসা বা বিকৃত দেখা যায়। চুল, দাঁত বা মুখের ত্বক অতিরিক্ত মসৃণ বা অস্বাভাবিক মনে হতে পারে। আলোর উৎস ও ছায়ার সমন্বয় বাস্তবতার সঙ্গে না মিললে ছবিটি এআই-জেনারেটেড হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
ভিডিওতে অঙ্গভঙ্গি ও গতির স্বাভাবিকতা পরীক্ষা করাও জরুরি। মুখের অঙ্গভঙ্গি, ঠোঁটের চলন, চোখের ঝাপসা বা ফ্রেম ল্যাগ প্রাকৃতিক না হলে ভিডিওটি এআই-জেনারেটেড হতে পারে। এছাড়া ভিডিওর পটভূমি বা আবহ মাঝে মাঝে সামঞ্জস্যহীন হয়ে ওঠে, যা মানুষের চোখে সহজে ধরা পড়ে।
আরও পড়ুন: এআইয়ের সঠিক ব্যবহার করে নীতিমালা ও নৈতিক শিক্ষা গড়ার আহ্বান
Reverse Image Search ও উৎস যাচাই
গুগল, বিং বা ইয়াহুর রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে ছবি আপলোড করে দেখা যায় এটি পূর্বে কোথাও ব্যবহার হয়েছে কি না। যদি ছবি নতুন বা কোথাও প্রকাশিত না হয়ে থাকে, তবে এটি এআই-জেনারেটেড হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া বা ওয়েবসাইট থেকে ছবি/ভিডিও সংগ্রহ করলে উৎস যাচাই করা অপরিহার্য। পরিচিত বা প্রামাণ্য সূত্র থেকে এসেছে কি না নিশ্চিত করা জরুরি।
বিশেষ টুলস ও সফটওয়্যার ব্যবহার
বর্তমানে কিছু ওয়েবসাইট ও অ্যাপ এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট শনাক্ত করতে সহায়তা করে। যেমন Deepware Scanner ছবির ও ভিডিওর মধ্যে ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন চিহ্নিত করে, Microsoft Video Authenticator ভিডিও ও ছবি এআই শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়, আর Reality Defender অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় এআই কনটেন্ট চিহ্নিত করতে সহায়ক। এছাড়া AIOrNot.com এবং TinEye.com-এর মতো সাইট ছবির বিশ্লেষণ করে তা বাস্তব না কৃত্রিম তা দ্রুত জানিয়ে দেয়।
মেটাডেটা বা ফাইল প্রপার্টি পরীক্ষা
ছবির মেটাডেটা দেখলে বোঝা যায় ছবিটি কীভাবে তৈরি হয়েছে। অনেক এআই টুল ছবির মেটাডেটায় নির্মাণ বা এআই-জেনারেটেড ট্যাগ রাখে। তবে কিছু ক্ষেত্রে এ তথ্য মুছে ফেলা হয়, তাই এটি সবসময় নির্ভরযোগ্য নয়।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এআই প্রযুক্তি জীবনের জন্য সহায়ক হলেও এর অপব্যবহারও কম নয়। এআই-জেনারেটেড কনটেন্টের প্রতি সচেতন থাকা এবং সঠিক শনাক্তকরণের কৌশল জানা প্রতিটি ব্যবহারকারীর জন্য অত্যন্ত জরুরি। নিরাপদ থাকতে প্রত্যেককে উৎস যাচাই, অস্বাভাবিকতা পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় টুল ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
সূত্র: পিসি ম্যাক
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








