বিনোদন ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:০৯, ১৫ আগস্ট ২০২৬

বসুন্ধরায় অভিনেত্রী রিধিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

বসুন্ধরায় অভিনেত্রী রিধিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিজ বাসা থেকে উদীয়মান মডেল ও অভিনেত্রী রিধিকা রিধির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। 

শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোর ৬টার দিকে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন স্বজনরা। এরপর দ্রুত তাকে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই অকাল মৃত্যুতে শোবিজ অঙ্গনসহ সর্বমহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, এটি একটি আত্মহত্যার ঘটনা। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও এর নেপথ্যের ঘটনা প্রবাহ নিশ্চিত হতে আইন অনুযায়ী তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

রিধিকা রিধির পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই মৃত্যুর পেছনে একটি বিশেষ ঘটনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। 

পরিবারের দাবি, হাসিবুর রহমান নামের এক যুবকের সঙ্গে রিধিকার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। শনিবার ভোরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে ভিডিও কলে কথা-কাটাকাটি হয় অভিনেত্রীর। ভিডিও কলে কথা বলার এক পর্যায়েই রিধি সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে পরিবার অভিযোগ করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ এ ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। 

আরও পড়ুন: অনেক কিছুই আমার কাছে আছে, সময়মতো প্রকাশ করব: তানজিন তিশা

ওসি মাজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আত্মহত্যার প্ররোচনার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের তদন্তের আওতায় রয়েছে তাদের সম্পর্কের ধরন, ভিডিও কলে তাদের মধ্যে কী নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল এবং মৃত্যুর আগে ঠিক কী পরিস্থিতিতে তিনি এমন চরম পদক্ষেপ নিলেন। রিধিকার পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে এ বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।

শোবিজে রিধিকা রিধি মূলত মডেলিংয়ের মাধ্যমে নিজের পরিচিতি গড়ে তোলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি নিয়মিত অভিনয়ে মনোযোগী হন। ছোটপর্দায় তার বেশ কিছু কাজ দর্শক মহলে প্রশংসিত হয়েছিল। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে এখানে মানুষ বিক্রি হয়, বহুরূপী, ডাবল হানিমুন, সুন্দরী, পিনিক ম্যান ৪, চাষার বউ ডাক্তার এবং লেডি বাটপার। নিজের ক্যারিয়ারকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে তিনি নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছিলেন। তার এমন মৃত্যুতে বিনোদন জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হলো।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আসার পরই মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত নিশ্চিত হওয়া যাবে। 

পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি কেবল আত্মহত্যা কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো প্রভাব রয়েছে, তা উদ্ঘাটন করতে প্রযুক্তিগত ও ফরেনসিক উভয় ধরনের অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়