কাঁঠালের বীজ থেকে ১৭ গুণ বেশি খনিজ আহরণের প্রযুক্তি উদ্ভাবন
ছবি: সংগৃহীত
দেশের জাতীয় ফল কাঁঠালের বীজ, খোসা ও অন্যান্য অবশিষ্টাংশকে উচ্চমূল্যবান সম্পদে রূপান্তরের নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) গবেষকরা। কাঁঠালের বীজ থেকে খনিজসমৃদ্ধ খাদ্য উপাদান (মিনারেল কনসেন্ট্রেট) তৈরির এ প্রযুক্তি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকারের পেটেন্ট লাভ করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হক এবং স্নাতকোত্তর গবেষক মো. আকরাম হোসেনের যৌথ গবেষণায় প্রযুক্তিটি উদ্ভাবিত হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় তিন বছরের গবেষণার পর ২০২৫ সালের নভেম্বরে এ সাফল্য আসে।
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নামে যাত্রা শুরুর পর এটি প্রতিষ্ঠানটির প্রথম পেটেন্টপ্রাপ্ত উদ্ভাবন। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট পেটেন্টপ্রাপ্ত প্রযুক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১টিতে।
গবেষণায় দেখা গেছে, শুকনো কাঁঠালের বীজে সাধারণত প্রায় ২ শতাংশ খনিজ উপাদান থাকে। তবে নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই খনিজের পরিমাণ ৩৩ শতাংশেরও বেশি ঘনীভূত করা সম্ভব হয়েছে, যা মূল উপাদানের তুলনায় প্রায় ১৬ থেকে ১৭ গুণ বেশি।
গবেষকদের মতে, এই মিনারেল কনসেন্ট্রেটে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, জিঙ্ক ও ম্যাঙ্গানিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রয়েছে। এটি বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে ব্যবহার করলে পুষ্টিগুণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং অপুষ্টি মোকাবিলায় সহায়ক হবে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এটি শুধু একটি পেটেন্ট অর্জন নয়; কৃষি, খাদ্য ও পুষ্টি গবেষণায় বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। গবেষণাগারের উদ্ভাবনকে শিল্প পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজে লাগানোই বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য।
আরও পড়ুন: অতিবৃষ্টিতে বাড়েনি পাটগাছ, ফলন কমায় লোকসানে চাষিরা
প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হক বলেন, প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা গেলে পুষ্টিসমৃদ্ধ নতুন খাদ্যপণ্য উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে খাদ্য অপচয় ও পরিবেশ দূষণ কমবে, কাঁঠালভিত্তিক শিল্পের প্রসার ঘটবে এবং কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কাঁঠালের ন্যায্য মূল্য পেয়ে লাভবান হবেন। সূত্র: বাসস
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








